Showing posts with label বিপিএল উদ্বোধনী অনুষ্ঠান. Show all posts
Showing posts with label বিপিএল উদ্বোধনী অনুষ্ঠান. Show all posts

2.11.2012

জমল না বিপিএল উদ্বোধন

ব্যবধান মাত্র এক বছর। এরমধ্যেই দুই রকম চিত্র দেখল বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমী। ২০১১'র ১৭ ফেব্রুয়ারি বিশ্বকাপ ক্রিকেটের মুগ্ধ জাগানো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল পুরো বিশ্বকে। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান দেখতে উন্মাদনার সৃষ্টি হয়েছিল বাংলাদেশসহ পুরো বিশ্বে। দর্শকের ঢল নেমেছিল বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম ও স্টেডিয়ামের বাইরে। দর্শকদের ক্রেজ দেখে অবাক হয়েছিল পুরো বিশ্ব। অথচ গতকাল বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) সাড়ে তিন ঘণ্টা স্থায়ী উদ্বোধনী অনুষ্ঠান কোনো আবেদনই ছড়াতে পারেনি ক্রিকেটপ্রেমীদের মাঝে। দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে বিপিএলের প্রথম আসরে উদ্বোধন হয়েছে। উদ্বোধন করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান। অনুষ্ঠান শুরুর কথা ছিল সাড়ে ৬টায়। শুরু হয় নির্ধারিত সময়ের আধঘণ্টা পর। উপস্থাপিকা ফারজানা নওশিন ও মুনমুনের উপস্থাপনায় শুরু হয় বিপিএলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। অর্থের ঝনঝনানির অনুষ্ঠান শুরু হয় জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আইয়ুব বাচ্চুর দরাজ গলায় অমর একুশের গান 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো, একুশে ফেব্রুয়ারি গান দিয়ে।' বাচ্চুর সঙ্গে অমর একুশের গান পরিবেশন করেন আরও ২৫ শিশু শিল্পী। গান শেষ হওয়ার পরপরই বাপ্পি লাহিড়ি ও শান পরিবেশন করেন বিপিএলের থিম সংগীত। এরপর থিম সংগীতের তালে তালে আদ্যাক্ষর অনুযায়ী মাঠে প্রবেশ করে বরিশাল বারনার্স, ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্স, চিটাগাং কিংস, খুলনা রয়্যাল বেঙ্গলস, দুরন্ত রাজশাহী ও সিলেট রয়্যালস। ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো সবাই মাঠে প্রবেশ করে তাদের দলীয় সংগীতের তালে তালে। সবাই উপস্থিত হন মাঠের ভিআইপি গ্যালারি সংলগ্ন স্টেজের সামনে। যেখানে বসেছিলেন রাষ্ট্রপতি। সাড়ে ৭টায় রাষ্ট্রপতি জিল্লুুর রহমান বিপিএলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপতির উদ্বোধন অনুষ্ঠান ঘোষণার পরপরই দুই জনপ্রিয় নৃত্যশিল্পী শিবলি মোহাম্মদ ও শামীম আরা নিপা রবীন্দ্র সংগীত 'আগুনের পরশমণি শোনাও প্রাণে...' গানের সুরে নৃত্য পরিবেশন করে সবাইকে আমন্ত্রণ সুরের জগতে। দুজনের নাচের পর একে একে গান গেয়েছেন রক শিল্পী মিলা, মাইলস। মাইলস গান করে-'ধিকি ধিকি আগুন জ্বলেসহ দুটি। মাইলসের পরপরই স্টেজ পারফরম করেন কলকাতার শিল্পী ঋতুপর্ণা সেন গুপ্তা। ঋতুপর্ণার পর দেশের দুই জনপ্রিয় শিল্পী সাকিব গান ও অপু বিশ্বাস নেচেছেন গানের তালে। দিবার পরে মঞ্চ মাতান মালাইকা অরোরা। মালাইকা অরোরা নেচেছেন মিনিট ১৫। মালাইকার নাচের আগে গান করেন এলআরবির শিল্পী আইয়ুুব বাচ্চু, বাপ্পি লাহিড়ি এবং শান। গানের পর্ব শেষ হওয়ার পর সবশেষে নেচেছেন বলিউডের 'হট সেনসেশন' বিপাশা বসু। বিপাশার নাচের পরই আতশ বাজি ঝলকানিতে রাতের মিরপুরকে আলোকিত করেছে।

খবরঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন

ও লা লা মাতালো বিপিএল

আলোর ঝলকানি, চোখ ধাঁধানো নাচ আর গানে উদ্বোধন হলো বিপিএল-এর। ও লা লা, ও লা লা গানে দর্শকদের মাতালেন প্রখ্যাত ভারতীয় শিল্পী বাপ্পী লাহিড়ি। গতকাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ বিপিএল-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গানের সঙ্গে নাচেন ভারতীয় শিল্পী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, বিপাশা বসু ও মালাইকা অরোরা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ঘিরে তারকার মেলা বসেছিল। ভারত-বাংলাদেশের বিনোদন অঙ্গনের অনেক তারকাই মঞ্চে উঠেছিলেন দর্শক মাতাতে। তবে মন মাতানো কোরীয়গ্রাফি আর অপরূপ নাচে দর্শকদের মন জয় করেন খ্যাতিমান নৃত্যশিল্পী শামীম আরা নীপা ও শিবলী মোহাম্মদ। উপভোগ্য নাচের সঙ্গে জায়ান্ট স্ক্রিনে ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল বাংলা মায়ের রূপ-বৈচিত্র্য। মাঝখানে বাংলাদেশের হট পপ শিল্পী মিলা কয়েকটি গান শোনান। এরপর মঞ্চে আসেন ব্যান্ডদল মাইলস। দলটির প্রধান ভোকাল সাফিন আহমেদ গেয়ে শোনান দর্শকপ্রিয় কয়েকটি গান। টালিউডের হাটথ্রুব নায়িকা ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত মঞ্চে ওঠেন অনেকটা খোলামেলা পোশাকেই। তবে সেটি দৃষ্টিকটু মনে হয়নি দর্শকদের। প্রথম অ্যালবামের হিট গান ঘুমন্ত শহরে গাইতে গাইতে মঞ্চে ওঠেন খ্যাতিমান ব্যান্ড তারকা আইয়ুব বাচ্চু। বাচ্চু নামতেই চোখ ধাঁধানো পোশাকে মোটরসাইকেল নিয়ে মঞ্চে আসেন বর্তমান সময়ে ঢালিউডের জনপ্রিয় নায়ক শাকিব খান। তার সঙ্গে ছিলেন যথারীতি অপু বিশ্বাস। কারো প্রেমে পড়লাম নারে, মোবাইল ফোনে শুনলাম নারে আই লাভ ইউ এই গানের সঙ্গে লিপসিং করে নাচেন শাকিব ও অপু। তারা মঞ্চ থেকে নামতেই গ্যালারি থেকে শব্দ আসে ও লা লা, ও লা লা। বোঝা যায় মঞ্চে উঠেছেন বাপ্পী লাহিড়ি। তিনি মঞ্চে উঠেই বলেন, আমার জন্ম কোলকাতাতে হলেও আমি নিজেকে বঙ্গ সন্তান মনে করি। বলেন, ও লা লা নিশ্চয় হবে। তবে তার আগে মনমাতানো আরও কিছু গান করতে চাই। আমরা অমরসঙ্গী, ডিস্কো ড্যান্সার সহ আরও কয়েকটি গান গেয়ে শোনান তিনি। এরপর মঞ্চে ওঠেন ভারতীয় হট নায়িকা ও আইটেম গার্ল মালাইকা অরোরা। ছাম্মাক ছাল্লো, কোলাবারি ডি, চল ছাইয়া ছাইয়া, মুন্নি বদনাম হুয়ি গানের সঙ্গে নাচেন তিনি । এ সময় দর্শকরা নানা চিৎকার ও শিশ বাজিয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন। তরুণ-তরুণীদের চেয়ার ছেড়ে গানের তালে তালে নাচতে দেখা যায়।
ভারতীয় আইপিএল-এর মোড়কে গড়া বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ (বিপিএল) নিয়ে উত্তেজনাটা অনেকদিনেরই বলা যায়। ক্রিকেট অনুরাগীরাও আগে থেকেই বেশ রোমাঞ্চিত ছিলেন বিপিএল-এর এই প্রথম আসর নিয়ে। কিন্তু উদ্বোধনের দিন দেখা গেল উল্টো চিত্র। দর্শকশূন্য গ্যালারিতেই পর্দা উঠালো বিপিএল-এর প্রথম আসরের। টিকেটের অগ্নিমূল্যের কারণে দর্শকরা স্টেডিয়ামমুখী হননি। ম্যাচের টিকেট পাঁচ শ’ টাকা থাকলেও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের টিকেটের সর্বনিম্ন মূল্য ছিল ২০০০ টাকা। এ কারণেই আয়োজনে কমতি না থাকলেও দর্শকরা সেভাবে ভিড় জমায়নি মিরপুর শের- ই-বাংলা স্টেডিয়ামে। এর সঙ্গে ছিল চরম অব্যবস্থাপনা। যা গতকাল কারও চোখ এড়ায়নি। সাড়ে ৬টায় অনুষ্ঠান শুরু করার কথা থাকলেও তা শুরু হয় ৪৫ মিনিট পর। সবচেয়ে বেশি বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে পড়তে হয় সাংবাদিকদের। জমকালো এই আয়োজনে শুরুতে ভাষা শহীদদের স্মরণ করে যাত্রা শুরু করে বিপিএল। তারপরই বিপিএল-এর থিং ‘যুদ্ধ শুরু ক্রিকেটের’ মঞ্চে আসেন বাপ্পী লাহিড়ি, সান ও কুমার বিশ্বজিৎ। এরা একসঙ্গে বিপ এরপর একে একে থিং সংয়ের তালে তালে মাঠে প্রবেশ করে ছয়টি দল। এরপরই ফাঁকা গ্যালারির সামনে বিপিএল-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন- প্রেসিডেন্ট মো. জিল্লুর রহমান। এ সময় প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলী সরকার, বিসিবি’র প্রেসিডেন্ট আহম মোস্তফা কামাল ও বিপিএল’র প্রেসিডেন্ট গাজী আশরাফ হোসেন লিপু।
টিকেটের উচ্চমূল্য এবং আয়োজকদের সমন্বয়হীনতার কারণে দর্শকরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের। হাতে গোনা হাজার দু’য়েক দর্শক যাও টিকেট কেটে মাঠে আসেন তারাও ভাল করে উপভোগ করতে পারেননি উদ্বোধন অনুষ্ঠান। মাঠে চারটি জায়ান্ট স্ক্রিন থাকলেও সবগুলোই ছিল অকার্যকর। নওশিন ও মুনমুনের উপস্থাপনায় প্রেসিডেন্টের উদ্বোধনের পরই শুরু হয় চোখ ধাঁধানো আতশবাজি। তারপরই শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। উদ্বোধন ঘোষণার পরই মঞ্চের দখল নেন বলিউড অভিনেত্রী বিপাশা বসু ও মালাইকা অরোরা। এই দুই ভারতীয় শিল্পী ছিলেন বিপিএল-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের কেন্দ্রবিন্দুতে। এদের ভিড়ে হতাশ করেননি ঋতুপর্ণা, শাকিব খান, অপু বিশ্বাস। আর উপর বাংলার বাপ্পী লাহিড়ি, সানদের সঙ্গে কম যাননি এপার বাংলার আইয়ুব বাচ্চু, কুমার বিশ্বজিৎ, মাইলস, মিলারা। একুশের গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ মধ্যদিয়ে শুরু হওয়া অনুষ্ঠান শেষ হবে বিপাশার নাচের তালে তালে ফায়ার ওয়ার্কসের মধ্য দিয়ে রাত ১০টায়। এই উদ্বোধন অনুষ্ঠান সরাসরি সমপ্রচার করে চ্যানেল নাইন। গোটা মাঠে আলোক বর্ণালী ছড়িয়ে দিতে বসানো হয়েছিল শ’ শ’ আধুনিক লাইটের মাঝে দেশী শিল্পীদের সঙ্গে বিদেশীদের চোখ ধাঁধানো পারফরমেন্স কাউকে হতাশ করেননি সেটা বলা যায়।

2.09.2012

বিপিএল উদ্বোধনীতে তারকামেলা

আজ বিপিএলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠান শুরু হবে। এতে অংশ নিচ্ছেন বাংলাদেশ ও ভারতের বেশকিছু শীর্ষ তারকা। বাংলাদেশ থেকে অনুষ্ঠানে থাকবেন শীর্ষ নায়ক শাকিব খান ও অপু বিশ্বাস। দু'জনই অনুষ্ঠানে পারফর্ম করবেন। আর বলিউড থেকে পারফর্ম করবেন বিপাশা বসু, 'মুনি্ন বদনাম হুয়ি'খ্যাত মালাইকা অরোরা ও ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তা। পাশাপাশি গানের অনুষ্ঠানও রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করবে এলআরবি ও মাইলস। ভারত থেকে গান পরিবেশন করতে আসছেন বাপ্পি লাহিড়ী এবং শান। এ ছাড়া থাকছে নৃত্য। ১০০ শিল্পী নিয়ে নৃত্য পরিবেশন করবেন শিবলী মোহম্মদ ও শামীম আরা নীপা। পুরো অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করবেন নওশীন এবং মুনমুন। অনুষ্ঠান প্রসঙ্গে নওশীন বলেন, 'আমরা পুরো অনুষ্ঠানটির জন্য প্রস্তুত। বেশ জমকালো আয়োজন। বিপিএলের উদ্বোধনী দিনেই দর্শক আনন্দে মেতে উঠবেন বলে আশা করছি আমরা।'

ভারত থেকে আজ সকালে তারকারা আসবেন।

পুরো অনুষ্ঠানটি চ্যানেল নাইন সরাসরি সম্প্রচার করবে। এরই মধ্যে সরাসরি সম্প্রচারের সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে নতুন এ চ্যানেলটি।

আইপিএলের মতো বিপিএলকে জনপ্রিয় করতে শুরু থেকেই শোবিজ তারকাদের সম্পৃক্ততা লক্ষ্য করা গেছে। চিটাগাং এবং বরিশাল বাদে বাকি দলগুলো তারকাদের অন্তর্ভুক্তি করেছে। ঢাকা গ্ল্যাডিয়টরের সঙ্গে আছেন নোবেল এবং বিন্দু। সিলেট রয়্যালস-এ আছেন ইমন, নিরব, সারিকা, পিয়াসা। দুরন্ত রাজশাহীতে আছেন ফুয়াদ এবং ডি রকস্টার শুভ। আর খুলনা দলে আছেন ফেরদৌস ও হাবিব।

খবরঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন

2.08.2012

প্রস্তুত বিপিএলের মহামঞ্চ

ভাষার মাসের এ ক্যালেন্ডারে গেলবার থেকেই ঠেসেঠুসে জায়গা করে নিয়েছে ক্রিকেট। গত ফেব্রুয়ারিতে বিশ্বকাপের মহাযজ্ঞ হয়েছিল এই বঙ্গদেশে। রাত জেগে টিকিটের লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে বিশ্ব ক্রিকেটে একটা উন্মাদনার বার্তা পেঁৗছে দিয়েছিল ক্রিকেটপ্রেমী বাংলাদেশিরা। এবারও তেমন একটা মহোৎসব হতে যাচ্ছে দেশে। ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ঢাকার মাঠে শুরু হচ্ছে ঘরোয়া ক্রিকেটের ক্রোড়পতি লীগ বিপিএল টি২০। যেখানে নিখাদ ক্রিকেটের সঙ্গে করপোরেট আর বলিউডের ত্রিবেণী সঙ্গম ঘটতে চলেছে।
সাকিব, তামিম, গেইল, আফ্রিদি, জয়সুরিয়াদের সঙ্গে এ আসরকে মায়াবী করতে আসছেন বিপাশা বসু, মালাইকা অরোরারা। টি২০ ক্রিকেটের এ রক অ্যান্ড রোলের আগমনী ধ্বনি কানে আসতে শুরু করেছে। মিরপুরে গিবস, জয়সুরিয়াদের ব্যাট-বলের ঠোকাঠুকির শব্দ মিশে যাচ্ছে উদ্বোধনী মঞ্চ তৈরি করতে আসা ভারতীয় কলাকুশলীদের হাতুড়ির আওয়াজে। তারকা ক্রিকেটারদের পাশাপাশি ঢাকায় আসতে শুরু করেছেন আইসিসি এলিট প্যানেলের আম্পায়ার এবং ম্যাচ রেফারিরা। বিপিএলে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে আইসিসির দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রতিনিধিও আসছেন ঢাকায়। বিপিএলের উত্তাপটা অবশ্য বিশ্বকাপের মতো জ্বর ছড়ায়নি। টিকিটের আগুন মূল্য, অবশ্যই এর অন্যতম কারণ। 'উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের এক হাজার টিকিট বিক্রি প্রায় শেষ। আজকালের মধ্যে হয়তো বাকিগুলোও বিক্রি হয়ে যাবে। টিকিটের মূল্য একটু বেশি হওয়ার কারণেই হয়তো বিশ্বকাপের মতো লাইন নেই। মানুষের উৎসাহ আছে বিপিএলে।' ঢাকা ব্যাংকের ধানমণ্ডি শাখার ব্রাঞ্চ ম্যানেজার সাবি্বর আহমেদের বিশ্বাস, ১০ ফেব্রুয়ারি মাঠে ম্যাচ গড়ালে টিকিটের চাহিদা বেড়ে যাবে।
নূ্যনতম ৫০০ টাকা খরচ করে এক টিকিটে দুটি ম্যাচ দেখার শখ অনেকের থাকলেও, সাধ্যের বাইরেও তা অনেকেরই। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাপ্পি লাহিড়ীর গান, ঋতুপর্ণ সেনগুপ্তের নাচ কিংবা হিলিয়াম বেলুনের ঝলক দেখার জন্য নূ্যনতম ১০০০ টাকাও মধ্যবিত্তের বাজেটের বাইরে বাড়তি খরচ। 'টিকিটের মূল্য একটু বেশিই হয়ে গেছে। এখানে ক্রিকেটের সঙ্গে বিনোদনেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে। মূল্যটা এ জন্যই বেশি। এরপরও আমরা আশাবাদী ভরা গ্যালারি নিয়েই বিপিএল শুরু হবে।' বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান গাজী আশরাফ হোসেন লিপুরও বিশ্বাস, ১০ থেকে ২৯ ফেব্রুয়ারি দেশের ক্রিকেট বুঁদ হয়ে থাকবে বিপিএলে। জৌলুসে বিশ্বকাপের সমান না হলেও, আকর্ষণে কম যাবে না বিপিএল। সামাজিক ওয়েবসাইট ফেসবুক আর টুইটারে বিপিএল সমর্থক গোষ্ঠীর মধ্যে এসব নিয়েই আলোচনা হচ্ছে। কৌতূহলী সবাই জানতে চাইছে গেইল কবে আসবেন, বলিউড তারকা প্রিয়াঙ্কা চোপড়া মাঠে এসে কী করবেন? সবক'টা কৌতূহলের বর্ণনা এক করলেই জলপ্রপাতের মতো বিপিএলের আগমনী অনুভব করা যায়।
তারকায় ভরা দল
ভারতের আইপিএল দেখা দর্শকদের কাছে বিপিএলটা অনুকরণীয় মনে হতে পারে। বিপিএল আয়োজকরা অবশ্য বলছেন, খেলাধুলায় ফ্রাঞ্চাইজি মডেল বেশ পুরনো। যুক্তরাষ্ট্রে বাস্কেটবল লীগে এ মডেল সফলতা পেয়েছে অনেক আগে থেকেই। আইপিএল দেখা দর্শকদের কাছে তাই গুণ ও মানের গ্যারান্টি দিচ্ছে বিপিএল। ক্রিস গেইল, শহিদ আফ্রিদি, সনাথ জয়সুরিয়া, স্কট স্টাইরিশের মতো বিশ্বতারকাদের নিলাম বাজারে উচ্চমূল্যে কিনে নিয়ে বাংলাদেশের ফ্র্যাঞ্চাইজিরাও দেখিয়ে দিয়েছেন, এখানে ক্রিকেটের কদর নেহাত কম নয়। দক্ষিণের দল খুলনা রয়েল বেঙ্গলস দেশীয় তারকা সাকিব, নাসিরদের পাশাপাশি বিদেশি তারকা ভিড়িয়েছে জয়সুরিয়া, হার্শেল গিবস, চন্দরপল, ফিদেল অ্যাডওয়ার্ডকে। তবে সবচেয়ে বেশি ৭ লাখ ডলারে ঢাকা গ্গ্ন্যাডিয়েটর্স কিনে নিয়েছে বুম বুম শহিদ আফ্রিদি, সাইদ আজমল, কিয়েরন পোলার্ডদের। দল সাজাতে গিয়ে দক্ষিণের বরিশাল বার্নার্স কিনেছে ক্রিস গেইলের মতো নন্দিত টি২০ তারকাকে। গেইলের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডার ব্রাড হজও রয়েছেন বরিশালে। রাজশাহীর ফ্রাঞ্চাইজিতে আছেন পাকিস্তানের আবদুল রাজ্জাক এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের মারলন স্যামুয়েলসের মতো তারকা। সিলেট রয়্যালসের হয়ে বিপিএল মাতাতে আসছেন পাকিস্তানের সোহেল তানভীর আর কামরান আকমলরা। চট্টগ্রাম কিংসে তামিমের সঙ্গে তারকা দ্যুতি ছড়াতে আসছেন মুত্তিয়া মুরালিধরন। তাই ধারে এবং ভারে কোনো অংশেই আইপিএলের চেয়ে কম যাবে না বিপিএল।
দেখা যাবে চ্যানেল নাইন ও ইএসপিএনে
বিপিএল আসায় উপমহাদেশের একচেটিয়া বাজার হারানোর ভয় আছে ভারতেরও। খোদ সৌরভ গাঙ্গুলি বলেছেন, তাকে বিপিএলে আসার অনুমতি দেয়নি ভারতীয় বোর্ড। এমনকি কোনো ক্রিকেটারকে নিলামেও ছাড়েনি। কেননা এরই মধ্যে দেশীয় গণ্ডি ছাড়িয়ে বহির্বিশ্বেও আগ্রহ সৃষ্টি করেছে বিপিএল। ইএসপিএন-স্টার স্পোর্টস বাংলাদেশের বাইরে বিপিএল দেখানোর স্বত্ব কিনে নিয়েছে। যদিও বাংলাদেশে বিপিএল সম্প্রচার স্বত্ব পেয়েছে চ্যানেল নাইন। মাথার ওপর স্পাইডার ক্যামেরার মতো আধুনিক সব ক্যামেরা বিপিএলে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তারা। ১০ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি মিরপুরে প্রতিদিন দুটি করে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। ১৮ থেকে ২২ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্টেডিয়ামে হবে আসরের পরের অংশ। শেষ অংশ ২৩ থেকে ২৯ ফেব্রুয়ারি ফের মিরপুরে ফিরে আসবে ম্যাচগুলো। দুপুর ২টায় শুরু হবে প্রথম ম্যাচ, মাঝে বিরতি দিয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় মাঠে গড়াবে দ্বিতীয় ম্যাচ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের চমক
দেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসর বিশ্বকাপের উদ্বোধন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঘরোয়া ক্রিকেটেরও তেমনই এক ইতিহাসে সাক্ষী থাকতে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ জিল্লুর রহমান।
৯ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৬টায় রাষ্ট্রপতি বিপিএলের উদ্বোধন ঘোষণা করবেন। ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক কিছু মুহূর্ত তুলে ধরে শুরু হবে অনুষ্ঠান। এরপরই একে একে মঞ্চে আসবেন বলিউড আর ঢালিউড তারকারা। প্রায় তিন ঘণ্টার অনুষ্ঠানে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া, মালাইকা অ্যারোরাদের সঙ্গে নাচবেন দেশীয় শিল্পী নিপা, শিবলি। ঢালিউড তারকার মধ্যে থাকছেন শাকিব খান এবং অপু বিশ্বাস। ভারতের বাপ্পি লাহিড়ীর সঙ্গে গাইবেন আইয়ুব বাচ্চু। চমকের তালিকা আরও লম্বা, যেটা এখনই বলতে রাজি হননি বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান গাজী আশরাফ হোসেন লিপু।

খবরঃ সমকাল

 

বিপিএলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান কাল

আগামীকাল বৃহস্পতিবার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে প্রায় তিন ঘণ্টার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান দিয়ে শুরু হবে প্রথম বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ, বিপিএলের আসর। অনুষ্ঠান শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টায়।
খেলা ১০ ফেব্রুয়ারি শুরু হলেও তার আগের সন্ধ্যায় জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান দিয়েই আলো ছড়াতে শুরু করবে বিপিএল। আনুষ্ঠানিকভাবে এর উদ্বোধন ঘোষণা করবেন রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান। একুশে ফেব্রুয়ারি সামনে রেখে বিশেষ পর্ব ছাড়াও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের জনপ্রিয় শিল্পীদের সঙ্গে অংশ নেবেন বলিউড তারকারা।
বলিউড তারকা বিপাশা বসু, মালাইকা অরোরা ও ঋতুপর্ণার সঙ্গে থাকবেন বাংলাদেশের শাকিব খান, অপু বিশ্বাস, শামীম আরা নীপা ও শিবলী মহম্মদ। যৌথ অংশগ্রহণ থাকবে সংগীতানুষ্ঠানেও। ভারতের শান ও বাপ্পী লাহিড়ীর সঙ্গে থাকবে বাংলাদেশের আইয়ুব বাচ্চু, মিলা ও ব্যান্ড মাইলস।
লেজার ও অ্যাক্রোব্যাটিক শোও থাকছে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ হয়ে। ঢাকা ব্যাংকের ঢাকার ১০টি শাখায় সোমবার থেকেই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। টিকিটের সর্বনিম্ন দাম এক হাজার টাকা।
তবে আলো ঝলমল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের জন্য ক্ষণগণনা শুরুর পাশাপাশি নানা হ্যাপাও সামলাতে হচ্ছে বিপিএল কর্তৃপক্ষকে। বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, প্রিমিয়ার লিগ ক্লাব সমিতির প্যাডে বিসিবি সভাপতির কাছে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে কিছু ক্লাবের পক্ষ থেকে। চিঠির বিষয়বস-ু, ২০১১-১২ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলোর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ যেসব দেশি-বিদেশি ক্রিকেটার বিপিএলে খেলবেন, ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো থেকে তাঁদের প্রাপ্ত অর্থের ন্যূনতম ২৫ শতাংশ দিতে হবে যাঁর যাঁর ক্লাবকে। ক্লাব থেকে নিতে হবে ছাড়পত্রও। এ ছাড়া বিপিএল থেকে বোর্ডের আয়ের ২৫ শতাংশ ঢাকা মহানগরসহ সারা দেশের ক্লাবগুলোকে দেওয়ারও দাবি জানানো হয়েছে চিঠিতে। আজকের মধ্যেই এসব ব্যাপারে ইতিবাচক সিদ্ধান- না নিলে আইনি পথে যাওয়ার হুমকি দিয়েছে ক্লাবগুলো। গত বৃহস্পতিবার প্রিমিয়ার লিগ বন্ধের প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনেও ঢাকার বিভিন্ন ক্লাব প্রতিনিধিরা বিপিএল নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। বিপিএল কিছু লোকের অর্থ লোপাটের মঞ্চ, করা হয়েছে এমন অভিযোগ।
ক্লাব সমিতির চিঠির ব্যাপারে জানতে চাইলে বিসিবি পরিচালক ও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের প্রধান গাজী আশরাফ হোসেন বলেছেন, ‘তাঁরা বোর্ড সভাপতি বরাবর চিঠি দিয়েছেন। আমরা আগে আলাপ-আলোচনা করে দেখব, এসব দাবি কতটা যৌক্তিক।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ক্লাব কর্মকর্তা অবশ্য এর মধ্যেই দ্বিমত পোষণ করেছেন ক্লাব সমিতির দেওয়া চিঠির ব্যাপারে, ‘খেলোয়াড়দের আয় থেকে ২৫ শতাংশ টাকা দাবি করাটা ঠিক হয়নি। তবে হ্যাঁ, দেশের ক্রিকেটের উন্নয়নের জন্য ক্লাবগুলোকে কিছু দেওয়া হলে ভালো।’