Showing posts with label media. Show all posts
Showing posts with label media. Show all posts

3.05.2012

বিপিএল থেকে মেলেনি কাঙ্ক্ষিত আয়কর

 দেশে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত টি-টুয়েন্টি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট বিপিএল (বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ) থেকে রাজস্ব আদায়ে আটঘাট বেঁধে নেমেছিল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। গঠন করা হয়েছিল শক্তিশালী কমিটি। কিন্তু অবস্থা হয়েছে বজ্র আঁটুনি ফসকা গেরোর মতো। বিপিএল শেষ হলেও এর খেলোয়াড়দের কাছ থেকে কোনো আয়কর মেলেনি।
জানা গেছে, বিপিএল থেকে ২০ কোটি টাকা রাজস্ব পাওয়ার প্রাক্কলন করেছিল এনবিআর। কিন্তু এখন পর্যন্ত শুধু সংশ্লিষ্ট মিডিয়ার কাছে থেকে ৫৩ লাখ টাকা রাজস্ব পাওয়া গেছে। তবে আগামী এপ্রিলের মধ্যে বিপিএলে অংশ নেওয়া খেলোয়াড়, ক্লাবসহ সংশ্লিষ্টদের সব কর পরিশোধ করবে বলে এনবিআরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিসিবি ও ছয় দলের কর্মকর্তারা। দেশে প্রথমবারের মতো বিপিএল আয়োজিত হওয়ায় এ সংক্রান্ত টেকনিক্যাল আইনি বিষয়গুলো বুঝে নিতে উল্লিখিত সময় চেয়ে নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বিপিএল থেকে রাজস্ব আদায়ে গঠিত কমিটির প্রধান ও কর পরিদর্শন পরিদফতরের মহাপরিচালক কানন কুমার রায় গতকাল সকালের খবরকে জানান, সরকারের ন্যায্য রাজস্ব আদায়ের স্বার্থেই বিপিএলকে কঠোর নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে। তবে দেশে প্রথমবারের মতো এ ধরনের অনুষ্ঠান হওয়ায় কর পরিশোধের জন্য বিসিবি ও ফ্র্যাঞ্চাইজি দলের কর্মকর্তারা কিছুটা সময় চেয়েছেন।
কর পরিশোধ ছাড়া কোনো বিদেশি খেলোয়াড় দেশ ত্যাগ করলে সে ক্ষেত্রে রাজস্ব আদায়ে কোনো অসুবিধা সৃষ্টি হবে কি না জানতে চাইলে তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে বিসিবি (বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড) এবং বিপিএলে অংশ নেওয়া দলগুলোর কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে রাজস্ব আদায়ে গঠিত কমিটির কাছে আন্ডারটেকিং (মুচলেকা) দিয়েছেন। সেই অনুযায়ী তারা আগামী এপ্রিলের মধ্যে যাবতীয় কর পরিশোধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
এনবিআর সূত্র জানায়, বিপিএল থেকে প্রায় ২০ কোটি টাকা রাজস্ব পাওয়ার প্রাক্কলন করা হলেও বিপিএলে অংশ নেওয়া মিডিয়ার কাছে থেকে এ পর্যন্ত মাত্র ৫৩ লাখ টাকা রাজস্ব পাওয়া গেছে। এর বাইরে এ সংক্রান্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থেকে পাওয়া গেছে ২৫ লাখ টাকা। এছাড়া দু’একদিনের মধ্যে আরও প্রায় ৫২ লাখ টাকা রাজস্ব পাওয়ার প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। তবে কোনো খেলোয়াড়ের কাছ থেকে এখনও কোনো রাজস্ব পাওয়া যায়নি। বিদেশি ক্রিকেটারদের কাছ থেকে ২৫ শতাংশ আয়কর কেটে রাখা হবে। আর দেশি খেলোয়াড়দের ১০ শতাংশ হারে কর দিতে হবে।
জানা যায়, বিপিএলের শুরু থেকেই রাজস্ব আদায়ে কঠোর অবস্থান নেয় এনবিআর। সেই অনুযায়ী কার্যক্রমও হাতে নেওয়া হয়। তবে প্রথম দিকে বিপিএলের সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে রাজস্ব প্রদানের ক্ষেত্রে সহযোগিতার কথা বলা হলেও শেষদিকে আশানুরূপ সাড়া পাওয়া যায়নি। এর পরিপ্রেক্ষিতেই এনবিআর থেকে বলে দেওয়া হয়, এনবিআরের ছাড়পত্র না নিয়ে কোনো দেশি-বিদেশি খেলোয়াড় বা বিপিএল সংশ্লিষ্ট কোনো কলাকুশলী দেশ ত্যাগ করতে পারবেন না। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব সরকারি কর্তৃপক্ষকে এনবিআর থেকে অবহিত করা হয়। এ পরিস্থিতিতে ক্লাব কর্তৃপক্ষ খেলোয়াড়দের দায়দায়িত্ব গ্রহণ করে। তারা এনবিআরকে জানায়, দেশে প্রথমবারের মতো বিপিএল অনুষ্ঠিত হওয়ায় এ সংক্রান্ত টেকনিক্যাল আইনি বিষয়গুলো বুঝে নিতে কিছু সমস্যা হচ্ছে। তাই আগামী এপ্রিলের মধ্যে খেলোয়াড়দের সব রাজস্ব ক্লাব কর্তৃপক্ষ এনবিআরের কাছে জমা দেবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

খবরঃ সকালের খবর 

বিপিএল আখ্যান !

undefined
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশ দুর্বল-এই ধারণাকে পুঁজি করেই আইপিএলের আদলে দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতা বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ বা বিপিএলের এই বিশাল আয়োজন। মিলিয়ন ডলারের এই প্রতিযোগিতা আদৌ বাংলাদেশের ক্রিকেটকে উপকৃত করতে পেরেছে কিনা, সেই প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট সকলের মনে। অব্যবস্থাপনা আর দর্শকহীনতা দিয়ে যে প্রতিযোগিতার শুরু, তার শেষটা হলো উচ্চ আদালতে একটি অংশগ্রহণকারী দলের রিট পিটিশন দাখিলের মধ্য দিয়ে বিপিএল বাংলাদেশের ক্রিকেটে কতটা ভূমিকা রাখলো, তা বুঝি আর বুঝতে বাকি নেই দর্শকদের।
বিপিএল শুরুর আগেই সন্দেহ দানা বেধেছিল। এদেশের ক্রিকেট আলোড়িত হয়েছে দেশসেরা পেসার মাশরাফি বিন মুর্তজার কাছে স্পট ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব যাওয়া নিয়ে। অভিযোগের আঙুল উঠেছে একদা জাতীয় দলের হয়ে খেলা এক সাবেক ক্রিকেটারের দিকে। তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। কিন্তু বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন বিসিবির। কিন্তু বিপিএল চলাকালে বাজিকর সন্দেহে এক পাকিস্তানি নাগরিকের আটক হওয়া, অংশগ্রহণকারী একটি দলের এক পাকিস্তানি ক্রিকেটারের জুয়া সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠা-সবমিলিয়ে বিপিএল কিন্তু আর একান্তই মাঠের ক্রিকেটের থাকেনি। সেইসঙ্গে যোগ হয়েছে বাইলজ বিতর্ক। বাইলজ বিতর্কের মারপ্যাঁচে ফেলে একটি দলকে সেমির আগেই বিদায় করে দেওয়া, গভীর রাতে বৈঠক করে বিসিবির টেকনিক্যাল কমিটির সেমিফাইনালের দল ঠিক করা। এর ফলশ্রুতিতে উচ্চ আদালতে রিট-বিপিএলকে করে তুলেছে যারপরনাই বিতর্কিত। যাবতীয় ঘটনা দেখে-শুনে বিসিবির চুক্তির মধ্যে থেকেও জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম বলতে বাধ্য হয়েছেন, ‘বিপিএলে যা হয়েছে, তা সত্যিই লজ্জার। এসব ঘটনা ঘটা সম্ভব কেবল এই দেশেই।’
অব্যবস্থাপনা বিপিএলের অন্যতম অনুসঙ্গ ছিল-একথা অস্বীকার করার কোনেই উপায় নেই। তারপরেও প্রথম আয়োজন হিসেবে ব্যাপারটিকে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতেই দেখছিলেন সকলে। কিন্তু বাইলজ নিয়ে যা ঘটল, তাতে ফুটে উঠেছে চরম অপেশাদারিত্ব। অপেশাদারিত্বের আরো একটি নমুনা যোগ হয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের সঙ্গে প্রতিযোগিতার শেষ পর্যন্ত কোনো চুক্তি স্বাক্ষর না করার মধ্য দিয়ে। বিসিবির কর্তাদের এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলেই তারা বলেছেন ‘পারস্পরিক আস্থা’র কথা। কিন্তু শতকোটি টাকা খরচ যেখানে ‘পারস্পরিক আস্থা’র মাধ্যমে করা হয়, সেখানে পেশাদারিত্ব কোথায় থাকে, তা বুঝে নিতে কোনো অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।
সেমিফাইনালের দল নির্বাচন নিয়ে বিপিএলে যা ঘটেছে, তার কোনো নজির নেই এদেশের ক্রীড়া ইতিহাসে। বিপিএল কভার করা সাংবাদিকদের এদিক দিয়ে হয়েছে চরম পেশাদারি অভিজ্ঞতা। পত্রিকার পাতায় সেমির লাইনআপ ছাপা হয়ে যাওয়ার পরেও দর্শকেরা মাঠে এসে দেখেছেন অন্য কাহিনি। এমন ঘটনা কি অতীতে কবে ঘটেছে, তা মনে করতে পারছেন না এদেশের খেলাধুলার ইতিহাস নিয়ে গবেষণা করা মহা অভিজ্ঞ ব্যক্তিও। এসব ঘটনাগুলো ‘প্রথম আয়োজন’ জাতীয় শব্দ-টব্দ দিয়ে বোধকরি ঢেকে রাখার কোনো উপায় নেই বিসিবির।
সমন্বয়হীনতাই মূলত এসব ঘটনার নেপথ্যের কাহিনি। চিটাগং কিংস ও বরিশাল বার্নার্সের মধ্যকার দ্বিতীয় পর্বের ম্যাচটির মাধ্যমে সামনে চলে এলো যাবতীয় সমন্বয়হীনতা। সেদিন প্রেসবক্সে বসা বিসিবির অফিসিয়াল স্কোরারদের মুখ থেকে সংবাদকর্মীরা জানলেন, চিটাগং কিংস আগে ব্যাটিং করে যা-ই স্কোর করুক, বরিশালকে তা টপকে যেতে হবে ১৬ ওভারের মধ্যেই। ব্যাপারটি সাংবাদিকেরা বারবার নিশ্চিত হতে চেয়েছেন। তাদের নিশ্চিত করাও হয়েছে। এক পর্যায়ে বিপিএলের টেলিভিশন সম্প্রচারক চ্যানেল নাইনের সম্প্রচারেও টেলিভিশন স্ক্রিনে ভেসে উঠল সেই একই কথা। বরিশালের সে মোতাবেক দুর্দান্ত জয়ে সাংবাদিকদের কলম থেকেও বের করল নানা ধরনের প্রশংসা-বাক্য। কিন্তু আসল ঘটনাটি ঘটল ম্যাচটির পরেরদিন বিকেল বেলা। হঠাত্ই জানা গেল, বাইলজ অনুযায়ী বরিশাল নয়, চিটাগং কিংস চলে যাচ্ছে সেমিফাইনালে। মহা বিভ্রান্তির মধ্যে প্রেসবক্সে এসে পুরো ব্যাপারটি বাইলজের সূত্র দিয়ে সাংবাদিকদের বোঝালেন বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক গাজী আশরাফ হোসেন। তিনি বললেন, বাইলজের সূত্র দিয়ে। গাজী আশরাফ হোসেন মতো ক্রিকেট ব্যক্তিত্ব ক্রিকেটের আইন-কানুন সম্বন্ধে অনেক বেশি জানেন, এটা ধরেই সাংবাদিকেরা তাঁর কথায় রাখল সব বিশ্বাস। প্রতিবেদন চলে যায় সংবাদপত্রে। চিটাগং কিংসকে সেমির দল হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিবেদনও ছাপা হয়ে যায়। কিন্তু গভীর রাতে হঠাত্ পাওয়া সংবাদে জানা যায়, চিটাগং কিংস নয়, বরিশাল বার্নার্সই সেমিফাইনালের দল। বাইলজ অনুযায়ীই নাকি ব্যাপারটির সুরাহা হয়েছে। এখন, পুরো ব্যাপারটি হিসেব করলে দেখা যায়, হয় গাজী আশরাফ হোসেন ক্রিকেট আইন সম্পর্কে কিছুই জানেন না, অথবা চিটাগংকে অন্যায়ভাবে সেমিফাইনাল থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। ব্যাপারটি নিয়ে সেই গভর্নিং কাউন্সিলের সচিব সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর তাঁর চেয়ারম্যান সম্পর্কে সাংবাদিকদের বললেন, ‘লিপু ভাই (গাজী আশরাফ হোসেন) ব্যক্তিগত মতামত দিয়েছেন।’ শুধু তাই নয়, টেকনিক্যাল কমিটি সেমিফাইনালের দল নিয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়ার আগেই বিসিবি সভাপতি আহম মোস্তফা কামাল একটি টেলিভিশন টকশোতে চিটাগং কিংসকে সেমির দল হিসেবে উল্লেখ করে বসলেন। সভাপতির কথা নিয়েও সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর বললেন, ‘কারো কোনো বিশেষ দলের প্রতি দুর্বলতা থাকতেই পারে।’ সমন্বয়হীনতার এরচেয়ে বড় উদাহরণ বিশ্ব ক্রীড়ার ইতিহাসে আর আছে কি?
উচ্চ আদালতে রিট দায়েরের কথাতো বাদই থেকে গেল। সেমিফাইনালে উঠতে না পেরে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় ফ্র্যাঞ্চাইজি চিটাগং কিংস। তাদের সঙ্গে অবিচার হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তারা। বাইলজের একটি ধারায় ছিল, যদি তিনটি দলের পয়েন্ট সমান হয়ে যায়, তাহলে প্রথমেই বিচার্য হবে সেই তিনটি দলের মধ্যকার মুখোমুখি লড়াইয়ে জয়ের সংখ্যা, পরে নেট রান রেট। বাইলজের আরো একটি ধরায় বলা ছিল একইভাবে দুটি দলের পয়েন্ট সমান হয়ে গেলে কী হবে-সেটা। বিপিএলে তিনটি দলের পয়েন্ট সমান হয়ে গিয়েছিল। ঢাকা, চিটাগং ও বরিশালের পয়েন্ট সমান হয়ে যাওয়ার ব্যাপারটি বিবেচনা করা হচ্ছে, এমনটা হিসেব করেই সেদিন প্রেসবক্সে এসে পুরো বিষয় সম্পর্কে সাংবাদিকদের ধারনা দিয়েছিলেন গাজী আশরাফ হোসেন। কিন্তু দেখা গেল টেকনিক্যাল কমিটি বিবেচনা করছেন চিটগং কিংস ও বরিশাল বার্নাসের বিষয়টি। ঢাকাকে তারা আগেই সেমিতে তুলে দিচ্ছেন, কারণ, এই তিন দলের মধ্যে ঢাকার জয় নাকি বেশি। বিষয়টি নিয়ে প্রাজ্ঞ ম্যাচ রেফারি দক্ষিণ আফ্রিকার মাইক প্রক্টরও সাংবাদিকদের প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
এসবই বিপিএলের আখ্যান। প্রথম আয়োজনটি এমনিতেই ইতিহাসের পাতায় স্থান পেয়ে যায়। বিপিএলের প্রথম আয়োজন স্থান পাবে নানা বিতর্ক, হাস্যকর বক্তব্য, সমন্বয়হীনতা, জুয়া-বাজির সন্দেহ, অব্যবস্থাপনা আর অনাকাঙ্খিত বিতর্কের কারণে। শেষের দিকের ঘটনাগুলো মাঠের লড়াইকে ম্লান করে দিয়েছে-একথা বললে বোধ হয় খুব একটা বাড়াবাড়ি হয় না। তবে প্রথমদিকে মুখ ফিরিয়ে থাকা দর্শকেরা শেষদিকে মাঠে ফিরেছেন, আফ্রিদি, সাঈদ আজমল, চন্দরপাল, কামরান আকমল, গিবস, ব্রাভো, স্মিথ, স্যামুয়েলস, পোলার্ডরা বিপিএলকে গ্ল্যামারের ছোঁয়া দিয়েছেন, আশরাফুল ফর্মে ফিরেছেন, মাশরাফি ফিরেছেন মাঠে, আইপিএলের আদলে একটি প্রতিযোগিতা বাংলাদেশ আয়োজন করেছে, সর্বপোরি বাংলাদেশের সাকিব আল হাসান ম্যান অব দ্যা সিরিজ হয়ে বিদেশি তারকাদের আধিক্যের মধ্যেও দেশের মুখ উজ্জল করেছেন-বিপিএলের সুন্দর দিকগুলো বোধ হয় এগুলোই। তবে বিতর্ক আর অব্যবস্থাপনাগুলো এড়ালে বিপিএল হতে পারত সর্বাঙ্গীন সুন্দর। হয়ত ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই করে নেওয়ার মতোই।

খবরঃ প্রথম আলো

1.29.2012

‘ইএসপিএন’ দেখাবে বিপিএল টি-২০ ম্যাচ


বিপিএল দেখাবে ইএসপিএন ঘটনাটা একেবারেই উল্টো হলো এবার। এত দিন ইএসপিএনের কাছ থেকে বড় বড় আসরের খেলা দেখানোর স্বত্ব কিনেছে বাংলাদেশের টিভি চ্যানেল। কিন্তু এবার বিপিএল টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের খেলা সম্প্রচারের জন্য চ্যানেল নাইনের কাছ থেকে স্বত্ব কিনেছে ইএসপিএন। এ কথা নিশ্চিত করেছেন চ্যানেল নাইনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এনায়েতুর রহমান। এরই মধ্যে ইএসপিএনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ ব্যাপারে তাঁদের চুক্তি হয়েছে। এ ছাড়া ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বিপিএল টি- টোয়েন্টি ক্রিকেটের খেলা সরাসরি দেখানোর ব্যাপারে বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের সঙ্গে আলোচনা করছে চ্যানেল নাইন কর্তৃপক্ষ। আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি শুরু হচ্ছে বিপিএল টি- টোয়েন্টি ক্রিকেট। টুর্নামেন্টের সব কটি খেলা সরাসরি দেখাবে চ্যানেল নাইন।

1.28.2012

বিপিএলকে মাতিয়ে তুলতে আসছে বলিউড তারকারা

আসন্ন বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগকে (বিপিএল) সামনে রেখে এর আয়োজক প্রতিষ্ঠান ভারতীয় গেম অন স্পোর্টস এর নানা পরিকল্পনার পাশাপাশি ফ্রেঞ্চাইজির প্রতি দর্শকদের আগ্রহ বাড়ানোর বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে দলগুলো। এর অংশ হিসেবে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস এর পক্ষে তাদের খেলার সময় দর্শক সারিতে হাজির থাকতে পারেন বলিউড তারকা কারিনা কাপুর, রানী মুখার্জি, অক্ষয় কুমার ও জন আব্রাহামের মত হার্ট থ্রব নায়ক-নায়িকারা ।  ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস এর চেয়ারম্যান সেলিম চৌধুরী একথা জানান। তিনি বলেন, ‘বিপিএলে আমরা শহিদ আফ্রিদী, সাঈদ আজমল ও কাইরন পোলার্ডের মত বিশ্ব কাঁপানো ক্রিকেটার দলভুক্ত করে চমক দিয়েছি। এখন মাঠের ভাল পারফর্মেন্স করার পাশাপাশি উপস্থিত সমর্থকদের জন্য মাঠে হাজির করতে চাই বলিউড তারকাদের। আন্তর্জাতিক সুচির কারণে শহিদ আফ্রিদী টুর্ণামেন্টের শুরুর দিকে উপস্থিত থাকতে না পারলেও দলের উদ্বোধনী ম্যাচে অন্তত ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস শিবিরে তাকে হাজির রাখার প্রচেষ্টা চালাচ্ছি।’ ঢাকা দলের মালিকানা পাওয়া এই সংগঠক বলেন, ‘শুধু মাত্র বলিউড তারকা নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনের নামী-দামী তারকাদেরও সমর্থক হিসেবে দর্শক সারিতে হাজির করার ইচ্ছা রয়েছে। তিনি বলেন, ভারতে আয়োজিত ইন্ডিয়ান ক্রিকেট লীগের (আইপিএল) গ্রহণ যোগ্যতা সম্পর্কে আমার কোন দ্বিমত নেই। তবে এদেশের দর্শক ও সমর্থকদের সহযোগিতা পেলে বিপিএলও এ দেশে আইপিএলের মত জনপ্রিয়তায় পৌঁছতে পারবে। বিপিএলের ফলে শুধুমাত্র কর্মকর্তারাই বেশি লাভবান হচ্ছে সর্বত্র এমন একটি কথার রেশ ধরে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস এর ম্যানেজার ও জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার বলেন, ‘এই টুর্ণামেন্টের মাধ্যমে শুধুমাত্র আয়োজক ও বোর্ড লাভবান হচ্ছে এমন না। এর ফলে খেলোয়াড়রাও লাভবান হবেন। প্রথমত তারা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন। দ্বিতীয়ত আন্তর্জাতিক ভাবে নামী-দামী কোচ ও খেলোয়াড়দের সংস্পর্শে আসতে পারবে স্থানীয় ক্রিকেটাররা। সেখান থেকে তারা অনেক কিছু জানতে ও শিখতে পারবেন। এর ফলে এ দেশের ক্রিকেটের উন্নয়ন ঘটবে। ফ্রেঞ্চাইজিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সিহাব চৌধুরী বলেন, ‘দলীয় পারফর্মেন্সের দিকে আমাদের নজর তো রয়েছেই। সেই সঙ্গে সামাজিক কর্মকান্ডের অংশ হিসেবে আমরা ঢাকার বাসিন্দাদের বিনোদনের পরিকল্পনা নিয়েছি। ঢাকার মানুষের বিনোদনের ব্যবস্থা কম। তাদের জন্য প্রথম কাজ হিসেবে আমরা কনসার্টের উদ্যেগ নিয়েছি। ঢাকার ফ্রেঞ্চাইজির উদ্যোগে অন্তত তিন চারটি কনসার্টের আয়োজন করা হবে। সেই সঙ্গে বিভিন্নভাবে ঢাকার ইতিহাস-ঐতিহ্য যাতে সারা বিশ্বে উপস্থাপন করা যায় সেই উদ্যোগ নেয়া হবে।’ এ জন্য অচিরেই পুরনো ঢাকার নেতৃস্থানীয়দের সঙ্গে বৈঠকের ব্যবস্থা করা হবে উল্লেখ করে সিহাব বলেন, বৈঠকের মাধ্যমে তাদের মতামত ও পরামর্শ নেয়া হবে।

(খবরঃ  জিএনএন )

1.19.2012

প্লেয়ার বেচাকেনা। নিলামের খবর।


ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস: পাকিস্তানের শহীদ আফ্রিদি (৭ লাখ ডলার), একই দেশের সাঈদ আজমল (১ লাখ ডলার), ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিয়েরন পোলার্ড (৩ লাখ ডলার), বাংলাদেশের মাশরাফি বিন মর্তুজা (৪৫ হাজার ডলার), পাকিস্তানের রানা নাভিদ উল হাসান (১ লাখ ডলার), বাংলাদেশের নাজিমউদ্দিন চৌধুরী (৮৫ হাজার ডলার), ইলিয়াস সানি (৭৫ হাজার ডলার), নাজমুল হোসেন (৪৫ হাজার ডলার), স্টুয়ার্ট ম্যাকগিল (৫০ হাজার ডলার), ড্যারেন ইয়ান স্টিভেন (২৫ হাজার ডলার), ইমরান নাজির (৮৫ হাজার ডলার), মোশারফ হোসেন রুবেল (৬৫ হাজার ডলার), ধীমান ঘোষ (২০ হাজার ডলার), আনামুল হক বিজয় (২০ হাজার ডলার), তানভির হায়দার (২০ হাজার ডলার) ও আফতাব আহমেদ (২০ হাজার ডলার)।

চট্টগ্রাম কিংস: পাকিস্তানের শোয়েব মালিক (১ লাখ ৫০ হাজার ডলার), শ্রীলঙ্কার মুত্তিয়া মুরালিধরন (১ লাখ ডলার), ওয়েস্ট ইন্ডিজের ডোয়াইন ব্র্যাভো (১ লাখ ৫০ হাজার ডলার), বাংলাদেশের মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (১ লাখ ১০ হাজার ডলার), ফরহাদ রেজা (৬৫ হাজার ডলার), জহুরুল ইসলাম (১ লাখ ১০ হাজার ডলার), অ্যালেক্স কারভিজি (৩৫ হাজার ডলার), নাসির জামশেদ (১ লাখ ডলার), কায়েল কব্জার (২৫ হাজার ডলার), কেভিন কুপার (২৫ হাজার ডলার), ল্যান্ডল সিমন্স (২৫ হাজার ডলার), ফয়সাল হোসেন ডিকেন্স (২০ হাজার ডলার), এনামুল হক জুনিয়র (৫৫ হাজার ডলার), জিয়াউর রহমান (৪০ হাজার ডলার), সানজামুল ইসলাম (৪০ হাজার ডলার), শামসুর রহমান (৪৫ হাজার ডলার) ও জেরমে টেলর (৫০ হাজার ডলার)।

দুরন্ত রাজশাহী: পাকিস্তানের আব্দুল রাজ্জাক (১ লাখ ডলার), বাংলাদেশের জুনায়েদ সিদ্দিক (৭০ হাজার ডলার), দক্ষিণ আফ্রিকার ইমরান তাহির (৫০ হাজার ডলার), ওয়েস্ট ইন্ডিজের মারলন স্যামুয়েলস (৩ লাখ ৬০ হাজার ডলার), রিজওয়ান বিন চিমা (২৫ হাজার ডলার), মোহাম্মদ সামি (৭০ হাজার ডলার), কায়সার আব্বাস (২৫ হাজার ডলার), সাব্বির রহমান (৪০ হাজার ডলার), মুক্তার আলী (২০ হাজার ডলার), সৈয়দ রাসেল (২০ হাজার ডলার), আরিফুল হক (২০ হাজার ডলার), মিজানুর রহমান (২০ হাজার ডলার), সাকলাইন সজিব (৩৫ হাজার ডলার), সৌম্য সরকার (২০ হাজার ডলার), ফাওয়াদ আলম (৪৫ হাজার ডলার), শন আরভিন (২৫ হাজার ডলার) ও আসিফ আহমেদ রাতুল (২০ হাজার ডলার)।

খুলনা রয়েল বেঙ্গলস: বাংলাদেশের আব্দুর রাজ্জাক (৮৫ হাজার ডলার), একই দেশের নাসির হোসেন (২ লাখ ডলার), দক্ষিণ আফ্রিকার আন্দ্রে রাসেল (৮৫ হাজার ডলার), শ্রীলঙ্কার সনাৎ জুয়াসুরিয়া (১ লাখ ১০ হাজার ডলার), আয়ারল্যান্ডের নিয়াল ও’ব্রায়েন (৮০ হাজার ডলার), ওয়েস্ট ইন্ডিজের ফিদেল এডওয়ার্ডস (৬০ হাজার ডলার), শফিউল ইসলাম (৬৫ হাজার ডলার), জোন্স বাটলার (২৫ হাজার ডলার), শিবনারায়ন চন্দরপল (২৫ হাজার ডলার), নাজমুল হোসেন মিলন (৩৫ হাজার ডলার), ডলার মাহমুদ (২০ হাজার ডলার), মারশাল আয়্যুব (২০ হাজার ডলার), মাইশাকুর রহমান (২০ হাজার ডলার), সগির হোসেন পাভেল (২০ হাজার ডলার), হার্শেল গিবস (১ লাখ ডলার) ও ডুয়াইন স্মিথ (৫০ হাজার ডলার)।

বরিশাল বার্নার্স: ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিস গেইল (৫ লাখ ৫১ হাজার), ব্র্যাড হজ (১ লাখ ৪০ হাজার ডলার), ইয়াসির আরাফাত (৮০ হাজার ডলার), আহমেদ শেহজাদ (৫০ হাজার ডলার), সোহরাওয়ার্দী শুভ ( ৪৫ হাজার ডলার), মোঃ মিথুন (৮০ হাজার ডলার), হামিদ হাসান (৪০ হাজার), রমিজ রাজা জুনিয়র (২৫ হাজার ডলার), ফরহাদ হেসেন (২০ হাজার ডলার), মমিনুল হক (২০ হাজার ডলার), সোহাগ গাজী (২০ হাজার ডলার), নাজমুল হোসেন অপু (৫০ হাজার ডলার), আল আমীন (২০ হাজার ডলার), আলাউদ্দিন বাবু (৬৫ হাজার ডলার) ও কামরুল ইসলাম রাব্বি (২০ হাজার ডলার)।

সিলেট রয়্যালস: ইমরুল কায়েস (৫০ হাজার ডলার), পিটার ট্রেগো (৭৫ হাজার ডলার), ড্যারেন স্যামি (৫৫ হাজার ডলার), ব্র্যাড হগ (৫০ হাজার ডলার), সোহেল তানভির (১ লাখ ডলার), কামরান আকমল (১ লাখ ডলার), রুবেল হোসেন (৭০ হাজার ডলার), নাঈম ইসলাম ( ৯০ হাজার ডলার), ফ্রেডি ক্লুকার (২৫ হাজার ডলার), ফয়সাল ইকবাল (২৫ হাজার ডলার), নাদিফ চৌধুরী (৩০ হাজার ডলার), নূর হোসেন মুন্না (২০ হাজার ডলার), আরাফাত সালাউদ্দিন (২০ হাজার ডলার), তালহা জোবায়ের (২০ হাজার ডলার), শুভাগত হোম (৮০ হাজার ডলার), নাবিল সামাদ (২০ হাজার ডলার) ও গেরি কেডি (২৫ হাজার ডলার)।