Showing posts with label আলাদা কিছু. Show all posts
Showing posts with label আলাদা কিছু. Show all posts

3.05.2012

বিপিএল নিয়ে উদ্বেগ ইংলিশ ক্রিকেটার্স এসোসিয়েশনের

ইংল্যান্ডের পেশাদার ক্রিকেটার্স এসোসিয়েশন (পিসিএ) সদ্য সমাপ্ত বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ (বিপিএল) নিয়ে তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করলো। আসরে জুয়াড়িদের কর্মকাণ্ড ধরা পড়ায় উদ্বিগ্ন খেলোয়াড় এসোসিয়েশনটি। এছাড়া, উদ্বেগ আছে তাদের স্বদেশী ক্রিকেটারদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়েও। বাংলাদেশের এই আসরে ইংলিশ কাউন্টির ক্রিকেটাররা পারিশ্রমিক ঠিকমতো পাবে কিনা এনিয়ে গুঞ্জনে উদ্বেগ জানায়  পিসিএ। ছয়জন ইংলিশ ক্রিকেটার অংশ নেন বিপিএলের প্রথম এ আসরে। কাউন্টি দল ডারহামের উইকেটকিপার ফিল মাস্টার্ড ও হ্যাম্পশায়ারের কবির আলী রানার্সআপ বরিশাল বার্নার্সের হয়ে খেলেছেন এবারের বিপিএলে। চ্যাম্পিয়ন ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের হয়ে খেলেন  ড্যারেন স্টিভেন্স। গ্যারি কেডি, জেসন রয় ও নায়াল ও’ব্রেইন কাউন্টি খেলা অন্য তিন ক্রিকেটার। সমারসেটের উইকেট রক্ষক ব্যাটসম্যান জস বাটলারও ছিলেন এবারের বিপিএল নিলামে। কিন্তু পাকিস্তানের সঙ্গে ওয়ানডে ও টি-২০ সিরিজে ইংল্যান্ড দলে ডাক পাওয়ায় বিপিএলে খেলা হয়নি তার। এ আসরে স্পট ফিক্সিংয়ে জড়িত থাকার অভিযোগে সাজিদ নামের এক পাকিস্তানি নাগরিকের বিরুদ্ধে মামলা চলছে ইতিমধ্যে। তবে কোন ইংলিশ ক্রিকেটারকে জড়িয়ে অনৈতিক কিছু শোনা যায়নি। সমপ্রতি স্পট ফিক্সিং মামলায় প্রথম কোন  ইংলিশ ক্রিকেটারকে কারাদণ্ড দেন লন্ডন হাইকোর্ট। ওয়েস্টফিল্ড নামের ডারহামের এ স্পিনারের বিরুদ্ধে অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়। আর এ ঘটনা ইংল্যান্ডের খেলোয়াড় এসোসিয়েশনটির চিন্তা আরও বাড়াবে।

খবরঃ মানব জমিন

বিপিএল থেকে মেলেনি কাঙ্ক্ষিত আয়কর

 দেশে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত টি-টুয়েন্টি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট বিপিএল (বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ) থেকে রাজস্ব আদায়ে আটঘাট বেঁধে নেমেছিল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। গঠন করা হয়েছিল শক্তিশালী কমিটি। কিন্তু অবস্থা হয়েছে বজ্র আঁটুনি ফসকা গেরোর মতো। বিপিএল শেষ হলেও এর খেলোয়াড়দের কাছ থেকে কোনো আয়কর মেলেনি।
জানা গেছে, বিপিএল থেকে ২০ কোটি টাকা রাজস্ব পাওয়ার প্রাক্কলন করেছিল এনবিআর। কিন্তু এখন পর্যন্ত শুধু সংশ্লিষ্ট মিডিয়ার কাছে থেকে ৫৩ লাখ টাকা রাজস্ব পাওয়া গেছে। তবে আগামী এপ্রিলের মধ্যে বিপিএলে অংশ নেওয়া খেলোয়াড়, ক্লাবসহ সংশ্লিষ্টদের সব কর পরিশোধ করবে বলে এনবিআরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিসিবি ও ছয় দলের কর্মকর্তারা। দেশে প্রথমবারের মতো বিপিএল আয়োজিত হওয়ায় এ সংক্রান্ত টেকনিক্যাল আইনি বিষয়গুলো বুঝে নিতে উল্লিখিত সময় চেয়ে নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বিপিএল থেকে রাজস্ব আদায়ে গঠিত কমিটির প্রধান ও কর পরিদর্শন পরিদফতরের মহাপরিচালক কানন কুমার রায় গতকাল সকালের খবরকে জানান, সরকারের ন্যায্য রাজস্ব আদায়ের স্বার্থেই বিপিএলকে কঠোর নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে। তবে দেশে প্রথমবারের মতো এ ধরনের অনুষ্ঠান হওয়ায় কর পরিশোধের জন্য বিসিবি ও ফ্র্যাঞ্চাইজি দলের কর্মকর্তারা কিছুটা সময় চেয়েছেন।
কর পরিশোধ ছাড়া কোনো বিদেশি খেলোয়াড় দেশ ত্যাগ করলে সে ক্ষেত্রে রাজস্ব আদায়ে কোনো অসুবিধা সৃষ্টি হবে কি না জানতে চাইলে তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে বিসিবি (বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড) এবং বিপিএলে অংশ নেওয়া দলগুলোর কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে রাজস্ব আদায়ে গঠিত কমিটির কাছে আন্ডারটেকিং (মুচলেকা) দিয়েছেন। সেই অনুযায়ী তারা আগামী এপ্রিলের মধ্যে যাবতীয় কর পরিশোধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
এনবিআর সূত্র জানায়, বিপিএল থেকে প্রায় ২০ কোটি টাকা রাজস্ব পাওয়ার প্রাক্কলন করা হলেও বিপিএলে অংশ নেওয়া মিডিয়ার কাছে থেকে এ পর্যন্ত মাত্র ৫৩ লাখ টাকা রাজস্ব পাওয়া গেছে। এর বাইরে এ সংক্রান্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থেকে পাওয়া গেছে ২৫ লাখ টাকা। এছাড়া দু’একদিনের মধ্যে আরও প্রায় ৫২ লাখ টাকা রাজস্ব পাওয়ার প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। তবে কোনো খেলোয়াড়ের কাছ থেকে এখনও কোনো রাজস্ব পাওয়া যায়নি। বিদেশি ক্রিকেটারদের কাছ থেকে ২৫ শতাংশ আয়কর কেটে রাখা হবে। আর দেশি খেলোয়াড়দের ১০ শতাংশ হারে কর দিতে হবে।
জানা যায়, বিপিএলের শুরু থেকেই রাজস্ব আদায়ে কঠোর অবস্থান নেয় এনবিআর। সেই অনুযায়ী কার্যক্রমও হাতে নেওয়া হয়। তবে প্রথম দিকে বিপিএলের সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে রাজস্ব প্রদানের ক্ষেত্রে সহযোগিতার কথা বলা হলেও শেষদিকে আশানুরূপ সাড়া পাওয়া যায়নি। এর পরিপ্রেক্ষিতেই এনবিআর থেকে বলে দেওয়া হয়, এনবিআরের ছাড়পত্র না নিয়ে কোনো দেশি-বিদেশি খেলোয়াড় বা বিপিএল সংশ্লিষ্ট কোনো কলাকুশলী দেশ ত্যাগ করতে পারবেন না। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব সরকারি কর্তৃপক্ষকে এনবিআর থেকে অবহিত করা হয়। এ পরিস্থিতিতে ক্লাব কর্তৃপক্ষ খেলোয়াড়দের দায়দায়িত্ব গ্রহণ করে। তারা এনবিআরকে জানায়, দেশে প্রথমবারের মতো বিপিএল অনুষ্ঠিত হওয়ায় এ সংক্রান্ত টেকনিক্যাল আইনি বিষয়গুলো বুঝে নিতে কিছু সমস্যা হচ্ছে। তাই আগামী এপ্রিলের মধ্যে খেলোয়াড়দের সব রাজস্ব ক্লাব কর্তৃপক্ষ এনবিআরের কাছে জমা দেবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

খবরঃ সকালের খবর 

বিপিএল: মন্দার দেশে মহাক্রীড়া

ভারতীয় টুর্নামেন্ট আইপিএল-এর আদলে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো আয়োজিত হলো বিপিএল। ধীরগতির খেলা ক্রিকেটে আজ গতি এসেছে, ম্যাচের দৈর্ঘ্য হ্রস্ব হয়েছে আর খেলোয়াড়েরা হয়ে উঠেছেন মারদাঙ্গা। বুদ্ধি আর শৈলীর খেলায় দেখা মিলছে ঝড় আর তাণ্ডবের। তবে বেশ কিছু বছর ধরে ক্রিকেট কেবল জনপ্রিয় একটি খেলাই নয়, এর সঙ্গে কর্পোরেট স্পন্সরশিপ আর মিডিয়া সহযোগে একটা ত্রিধারার জঙ্গে পরিণত হয়েছে ক্রিকটে। এই আন্তঃসম্পর্ক এতই গভীর যে স্পন্সর ছাড়া কোনো টুর্নামেন্ট হয়না, টিভি স¤প্রচার ছাড়া ক্রিকেট ম্যাচ আয়োজন এখন অসম্ভব। ক্রিকেটের নিয়মকানুনের মধ্যে টেলিভিশনের উপস্থিতিকে নিশ্চিত করা হয়েছে। টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটকে ঘিরে ভারতে একরকম মিডিয়া-সংঘাতও হয়েছে, ক্রিকেটকে দখলে রাখার জন্য এই সংঘাত। জিটিভি আইসিএলের আয়োজন করলে, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড সেটাকে বিদ্রোহী টুর্নামেন্ট হিসেবে চিহ্নিত করে ও পাল্টা আইপিএলের আয়োজন করে এবং মিডিয়া স্পন্সরশিপ বিক্রি করে সনি টেলিভিশন ও সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ড স্পোর্টস গ্রুপ-এর কাছে, ৮০০ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে। খেলোয়াড়দের যেভাবে নিলামে তোলা হয় এবং তারা যেভাবে ‘বিক্রি’ হন, তাতে তাদের শেষপর্যন্ত কৃতী ও মানী মানুষ মনে হয়না, মনে হয় নির্জীব-প্রাণহীন একেকটি পণ্য। রিউয়েল ডেনি নামের এক পণ্ডিত বলেছিলেন মিডিয়াবাহিত প্রতিযোগিতায় ক্রীড়া তার গীতল রূপটি হারিয়েছে, পরিণত হয়েছে ‘স্পেক্টল’-এ -- এক জাঁকজমকপূর্ণ প্রদর্শনীতে। বিধ্বংসী ব্যাটিং-চিয়ার গার্ল-তারকা অ্যাম্বাসেডর-স্পন্সরশিপ কাঁচামালে যে-বটিকা প্রস্তুত করা হয়েছে তা না গিলে দর্শক যাবে কোথায়?

আইপিএলের মতো করেই বাংলাদেশে আয়োজিত হয়েছে বিপিএল। আয়োজক হিসেবে বাংলাদেশের নাম এসেছে, খুলনা-বরিশালের মতো শহরগুলোর নাম দেশের বাইরে ছড়িয়েছে এবং বহির্বিশ্বের ধারণা হয়েছে গরিব বাংলাদেশে ওড়ানোর মতো কিছু টাকাওয়ালাও রয়েছে। কিন্তু বিপিএলের কঙ্কালটাই কেবল ক্রিকেট, নয়তো এতে রয়েছে কর্পোরেট অর্থনীতি ও বিপণন বাণিজ্যের রক্ত-মাংস। বিপিএলের শিরোনামেই কেবল রয়েছে বাংলাদেশ কিংবা দলের নামে রাজশাহী-সিলেট, নয়তো এ এক গ্লোবাল গেইম। পুরো বিপিএলের স্পন্সরশিপ কিনেছে ভারতীয় একটি কোম্পানি, তারা আবার এর নানান অংশ যেমন টাইটেল স্পন্সর, মিডিয়া পার্টনারশিপ এবং সর্বোপরি ফ্র্যাঞ্চাইজ মালিকানা বিক্রি করেছে নানান জনের কাছে। আবার বিপিএলের মূল আকর্ষণ হলো বিদেশি খেলোয়াড়েরা, যাদের উচ্চমূল্যে কিনতে হয়েছে। আইপিএলে এক দলে বিদেশি খেলোয়াড় খেলতে পারে সর্বোচ্চ চারজন, আর বিপিএলে পাঁচজন। আর রয়েছে বিদেশি কনসাল্টেন্টবাহিনী, ধারাভাষ্যকারবাহিনী। টাইটেল স্পন্সরশিপ, মিডিয়া পার্টনারশিপ এবং ফ্র্যাঞ্চাইজ মালিকানা বাংলাদেশি হলেও, এক্ষেত্রে বাংলাদেশের ব্যয়িত অর্থ যাবে ভারতীয় কোম্পানিটির অ্যাকাউন্টে। খেলোয়াড়-কনসাল্টেন্টের অর্থের প্রবাহপথও দেশ হতে বিদেশে। দেশীয় অর্থনীতির বর্তমান মন্দার সময়ে এই টুর্নামেন্ট তাই একটা খটকা, যান্ত্রিক সভ্যতার প্রতীক মোটরকার যেমন জীবনানন্দ দাশের কাছে খটকা হিসেবে হাজির হয়েছিল। দেশের লক্ষ লক্ষ শেয়ার ব্যবসায়ী যখন সর্বস্বান্ত হয়ে পথে বসার যোগাড়, তখন অর্থের ছড়াছড়ির এই রঙিলা টুর্নামেন্ট এক খটকাই বটে, যে টুর্নামেন্টে চিয়ার লিডারদের পাশাপাশি দলকে উজ্জীবিত করতে প্রায়শই বলিউডি তারকাদের আনাগোনা চলেছে।

বিপিএলের প্রথম আসরে নানান অভিযোগ-আশঙ্কা তৈরী হয়েছে। ম্যাচ ফিক্সিং-এর কালো ছায়া হানা দিয়েছে অন্তত দুইবার। পাকিস্তানি এক নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে এই অভিযোগে। চট্টগ্রাম না বরিশাল, সেমিফাইনালে কে যাবে তা নিয়ে হয়েছে নাটক। টুর্নামেন্টের বাইলজ নিয়ে আয়োজকদের পরিস্কার ধারণা না থাকায় এমনটি হয়েছে। জাতীয় দলের অধিনায়ক অভিযোগ করেছেন যে চুক্তি অনুযায়ী খেলোয়াড়দের অর্থ পরিশোধ করা হচ্ছে না। অন্যদিকে অভিযোগ আছে যে, খেলোয়াড়দের অর্জিত অর্থ থেকে আয়কর আদায়ের ব্যবস্থা ঠিকঠাকমতো রাখা হয়নি।

তবুও মানুষ ক্রিকেট দেখে। কারণ তারা ক্রিকেটকে ভালবাসে। জাতীয় দল ক্রিকেট খেললে দর্শকেরা জাতীয়তাবোধ দ্বারা আক্রান্ত-আবেগমথিত হইয়া পড়ে। বিপিএলে জন্ম হচ্ছে স্থানীয়-আঞ্চলিক জাতীয়তাবাদের। রাজশাহীর জয়ে উদ্বেলিত হয়েছে পুরো উত্তরবঙ্গ, সিলেটের পরাজয়ে মুষড়ে পড়েছে সিলেটিরা। এ হলো ক্রিকেটের সঙ্গে মানুষের প্রণয়ের সম্পর্কের নমুনা। এই ক্রিকেটপ্রেমের কারণেই তাদের আবার বিক্রিও করে দেয়া হচ্ছে। এই যে বিশাল অর্থের লেনদেন, তা হচ্ছে কিন্তু মানুষের ক্রিকেটপ্রেমকে পুঁজি করেই। ফলে অনুমোদন প্রদানকারী আইসিসি, আয়োজক বিসিবি, প্রচারকারী টেলিভিশন চ্যানেল -- সবাই মিলে স্পন্সর-ব্র্যান্ড-বিজ্ঞাপনদাতার কাছে বিক্রি করছে মানুষকেই। মানুষ সবান্ধব স্টেডিয়ামে গিয়েছে, টেলিভিশনের সামনে বসেছে শ্বাসরুদ্ধকর উত্তেজনায় অংশ নিতে আর প্রিয় দলকে বিজয়ী দেখতে -- এটা তার অধিকার যে এই আনন্দযজ্ঞে সে সামিল হবে। কিন্তু এই যজ্ঞের পেছনের রাজনৈতিক অর্থনীতিটি বুঝে নেবারও প্রয়োজন রয়েছে।

লিখেছেনঃ সামুর ব্লগার ফাহমিদুল হক

1.20.2012

উত্তেজনার বিপিএল নিলাম

মহানগর ঢাকা জেগে উঠলেও সকাল সোয়া ৯টার দিকে বিমানবন্দর সংলগ্ন র‌্যাডিসন হোটেলের সামনেটা একেবারেই নিষ্প্রাণ। তখনও বিসিবির বা বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল, গেম অন স্পোর্টস ম্যানেজমেন্টের বড় কর্তারা কেউ আসেননি; কিন্তু যে রুমটা পেরিয়ে বলরুমে প্রবেশ করতে হয় সে রুমের এক কোনায় দেখা গেল রাজশাহীর থিঙ্ক ট্যাংক আতাহার আলী খান, ফারুক আহমেদ, মুশফিকুর রহিম, খালেদ মাসুদ পাইলটরা নিবিষ্ট মনে শলাপরামর্শে ব্যস্ত। ভেতরে গিয়ে দেখা গেল অন্য ফ্র্যাঞ্চাইজিরাও একই কাজ করছে। তাদের এই ভাব দেখেই বোঝা গেল, পছন্দের খেলোয়াড় কিনতে কেউ কাউকে ছাড় দেবে না। দুপুর পৌনে ১২টা থেকে শুরু হওয়া নিলামেও দেখা গেল শক্তিশালী দল গড়তে সবাই মরিয়া। একে অন্যকে টেক্কা দেওয়ার মধ্য দিয়ে বিকেল ৪টার দিকে শেষ হয় নিলাম।
তবে টানটান উত্তেজনা থাকলেও ছিল না কোনো বিশৃঙ্খলা। অকশন কমিশনার বিসিবির সিনিয়র সহ-সভাপতি মাহবুব আনাম ২০১২ সালের ১৯ জানুয়ারিকে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের যুগান্তকারী দিন হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তার মতে, এ নিলামের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেট এক নতুন যুগে প্রবেশ করল। গতকালের নিলামে ১১১ বিদেশির মধ্যে ৪৬ জন এবং দেশি ৮৬ জনের মধ্যে ৬০ জন দল পেয়েছে। এর মধ্যে প্রত্যাশা মতোই টানাটানি পড়েছিল পাকিস্তানের অলরাউন্ডার শহিদ আফ্রিদি এবং ক্রিস গেইলকে নিয়ে। ৭ লাখ ইউএস ডলারে বুমবুম আফ্রিদিকে কিনেছে ঢাকা গ্গ্নাডিয়েটরস। আর ৫ লাখ ৫১ হাজারে ব্যাটিং দানব ক্রিস গেইলকে দলে টেনেছে বরিশাল। দেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দাম পেয়েছেন অলরাউন্ডার নাসির হোসেন। সিলেট এবং ঢাকার সঙ্গে লড়াই করে ২ লাখ ডলারে তাকে কিনে নিয়েছে খুলনা রয়্যাল বেঙ্গল। তবে নিলামে একটা বিষয় ছিল চোখে পড়ার মতো। অলরাউন্ডারদের দিকে নজর ছিল সবগুলো ফ্র্যাঞ্চাইজির। আর বর্ষীয়ান এবং বাংলাদেশের কন্ডিশনে এ ফরম্যাটে কতটা ভালো করতে পারবেন সে দিকে সজাগ ছিল প্রতিটা ফ্র্যাঞ্চাইজির।
বিদেশি 'এ' ক্যাটাগরির আবদুল রাজ্জাকের ডাকের মাধ্যমে শুরু হয় নিলাম। অস্ট্রেলিয়ান অকশনিয়ার সাইরাস মাদান পাকিস্তানি অলরাউন্ডারের নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই ভিত্তিমূল্য ১ লাখ ডলারে তাকে কিনে নেয় দুরন্ত রাজশাহী। শুরুর মিনিট পনেরোর মধ্যেই চলে আসে নিলামের সবচেয়ে উত্তেজনার মুহূর্তটি। প্রথমে ক্রিস গেইলকে নিয়ে লড়াইয়ে নামে তিন দল বরিশাল, খুলনা ও রাজশাহী। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে ক্যারিবীয় ক্রিকেটারকে পায় বরিশাল। আরেক ক্যারিবীয় দানব কিয়েরন পোলার্ডকে নিয়েও ভালোই উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। তবে সিলেটকে টেক্কা দিয়ে ৩ লাখ ডলারে তাকে কিনে নেয় ঢাকা। আর উত্তেজনার পারদ সর্বোচ্চ পর্যায়ে যায় আফ্রিদির বেলায়। সব ফ্র্যাঞ্চাইজিই তাকে কেনার জন্য লড়াইয়ে নামে। টাইব্রেকারে তাকেও দলে টানে ঢাকা গ্গ্নাডিয়েটরস।
দেশি ক্রিকেটারদের 'এ' ক্যাটাগরির নিলাম শুরু করেন চট্টগ্রামের রাশা নিজাম। এ পর্বে উত্তেজনা ছড়ান নাসির হোসেন এবং মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। এরপর শুরু হয় বিদেশি 'বি' ক্যাটাগরির নিলাম। রাজশাহীর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এই ক্যাটাগরির সবচেয়ে বেশি ১ লাখ ১০ হাজার ডলারে শ্রীলংকান বর্ষীয়ান অলরাউন্ডার সনাথ জয়সুরিয়াকে কিনে নেয় খুলনা। অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হওয়া এ নিলামে একটা ভুল বোঝাবুঝি হয় এই ক্যাটাগরিতে। জিম্বাবুয়ের অলরাউন্ডার এলটন চিগুম্বুরার নাম সাইরাস মাদান ডাকামাত্র রাজশাহীর টেবিল থেকে কেউ একজন হাত তোলেন। অন্য কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি তার ব্যাপারে আগ্রহ না দেখালে মাদান রাজশাহীর হাতে তুলে দেন তাকে। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে রাজশাহীর টিম ম্যানেজার ফারুক আহমেদ জানান, তারা চিগুম্বুরার জন্য বিড করেননি। তখন নিলাম কমিশনার মাহবুব আনাম জানান, কোনো টেবিল থেকে যে কেউ হাত তুললেই তা বিড বলে গণ্য হবে। প্রথমবার বলে রাজশাহীর কথা মেনে নেওয়া হলো। বিড করার জন্য প্রতিটি টেবিলে ব্যাটন দেওয়া হয়েছে ভবিষ্যতে যেন ওটা ব্যবহার করেন। অন্যথায় বিড বলে গণ্য করা হবে। এরপর আর কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি ভুল করেনি। মধ্যাহ্ন বিরতির পর আরো ঘণ্টাখানেক চলে নিলাম। দেশি-বিদেশি তিনটি ক্যাটাগরিতে নিলাম হওয়ার পর অবিক্রীত থাকা ক্রিকেটারদের মধ্যে যাদের প্রতি ফ্র্যাঞ্চাইজির আগ্রহ আছে তাদের আবার নিলামে তোলা হয়। প্রথমে অবিক্রীতদের মধ্যে 'এ' ক্যাটাগরির হার্শেল গিবসকে ভিত্তিমূল্যে কিনে নেয় খুলনা। 'বি' ক্যাটাগরির বিদেশিদের মধ্যে ডোয়াইন স্মিথকে খুলনা, জেরেমি টেলরকে চট্টগ্রাম, ফাওয়াদ আলম, শন অরভিনকে রাজশাহী এবং গ্যারি কেডিকে নেয় সিলেট। দেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে আসিফ আহমেদ রাতুলকে রাজশাহী এবং কামরুল ইসলাম রাবি্বকে নেয় বরিশাল।
তবে এত ক্রিকেটারের মাঝেও আট বিদেশি কোটার দু'জন এখনও বাকি বরিশালের। তবে অকশন কমিশনার জানিয়েছেন, বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের অনুমতিক্রমে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অবিক্রীত থাকাদের মধ্য থেকে ভিত্তিমূল্যে দু'জনকে নিতে পারবে তারা।


:::::খবরঃ সমকাল:::::