Showing posts with label বিপিএল রঙ্গ. Show all posts
Showing posts with label বিপিএল রঙ্গ. Show all posts

2.20.2012

বিপিএল স্পোর্টস রম্যঃ পর্ব ২

বিপিএলে যেখানে ভারতীয় ধারাভাষ্যকারেরা পাকিস্তানি প্লেয়ারদের হিন্দী-উর্দুতে সাক্ষাতকার নিচ্ছে সেখানে বাংলাদেশী খেলয়াড়দের বাংলায় সাক্ষাতকার নেবার কেউ নেই।পাকিস্তানি খেলোয়াড়েরা যখন ভারতীয় ধারাভাষ্যকারদের নিকট “খেলেঙ্গে,হারেঙ্গে,লুটেঙ্গে,পিটেঙ্গে,মারেঙ্গে” বলে আরামসে মনের ভাব প্রকাশ করছে সেখানে কমেন্টেটরদের কঠিন ইংরেজীতে প্রশ্ন শুনে বাংলাদেশী খেলোয়াড়েরদের মুখখানা দেখেই বোঝা যায় “প্রশ্ন কমন পড়ে নাই”।কমেন্টেটাররাও যেন বাংলাদেশী খেলয়াড়দের পেয়ে কঠিন কঠিন শব্দের ঝাপি খুলে বসছেন।যেমন-
বিদেশী কমেন্টেটরঃ how’s the gratification of the exogenous solitude of the pitch?
আমাদের দেশি খেলোয়াড়ঃ yes, pith was great,….(দীর্ঘ বিরতি) Ball drops, but low
বিদেশী কমেন্টেটরঃ so what you think about the counterinsurgency in the slumbered egotism of your players!!!

মাঠে যখন এই অবস্থা তখন কমেন্ট্রি বক্ষে থুক্কু বক্সে আরও বেহাল দশা।সেখানে আবার কমেন্ট্রেইটরদের পাশাপাশি বাংলাদেশী বনোদন তারকারাও থাকেন।তাদের সাথে আলোচনার শুরুটা অনেক সময় বাংলায় শুরু করে ভারতীয় উপস্থাপীকা শীনা চৌহান ইঙ্গিত দেন তিনি বাংলা জানেন।উত্তরে বাংলাদেশী তারকারা ইংরেজীতে খেলা নিয়ে উচ্ছাস প্রকাশ করে দেখিয়ে দেন তারাও ইংরেজী জানেন।সিনা সোজা করে শিনা চৌহান পরবর্তীতে ইংরেজী বলার পাশাপাশি একটা দুটো বাংলা বলে তার বাংলাভাষাপ্রীতি প্রকাশ করেন।সেই প্রীতি থেকেই কিনা মাঝে এক ম্যাচ বাদ দিয়ে ঘুরে এসেছেন শহীদ মিনার থেকে।এই সুযোগে ঐদিন কমেন্ট্রি বক্সে খেপ মারলেন বাংলাদেশী মডেল নাবিলা।বাংলাদেশি তারকাদের পাশাপাশি বিপিএলে দেখা যাচ্ছে বলিউড তারকাদের।ঢাকা গ্লাডিয়েটরস-এর ম্যাচে অনেকদিন পর Blue ফিল্ম-এর নায়ক জায়েদ খানের দেখা পাইলাম।(আমার দেখা জায়েদ খানের সর্বশেষ ফিল্মের নাম ছিলো Blue)।

এবার আসি খেলার কথায়।বিপিএল স্পোর্টসরম্য-এর আগের পর্বে প্রথম চার ম্যাচ-এর বিবরন দিয়েছিলাম।সেমিষ্টার ফাইনলা পরীক্ষা চলায় সব ম্যাচ দেখা হয় না।তারপরও সামুর পাঠকদের জন্য কিছু ম্যাচের ম্যাগনেটিক (চুম্বক) অংশঃ

Barisal Burners VS Khulna Royal Bengal Tigers
ম্যাচটা ছিলো বসন্তেরর শুরুর দিন পহেলা ফাল্গুনে।অনেক আপুরাই হলুদ শাড়ি পরে স্টেডিয়ামে গিয়েছিলেন।কিন্তু ক্যামেরা ঘুরে যাচ্ছিলো এক জনের দিকেই।তিনিও হলুদ শাড়ির সাথে ম্যাচ করা হলুদ দাতের হাসি দেখিয়ে ক্যামেরাকে স্বাগত জানালেন।আমি তো ভেবেছিলাম আজ “বল ফাটুক আর না ফাটূক গেইলের বসন্ত’।কিন্তু শূরু থেকেই খুলনার বোলাররা গেইলের খেইল থামাও আন্দোলনে নামলেন।তাদের একের পর এক মাপা লাইনের বোলিং-এ সহিংশ গেইল অহিংশ না হয়ে পারলেন না।অনেকগুলো বলে মারলেন না,যেই একটু আগ্রাসী হবার চেষ্টা তখনই আউট।শাহজাদ আউট ছিলো আগেই,এই দুইজনকে অনুসরন করতে থাকলো বরিশালের বাকী ব্যাটসম্যানরাও।বরিশাল নদীবহুল এই কথা জেনে এসেই কিনা একের পর এক নদী পরিষ্কার (রিভার সুইপ) শট খেলে কিছুটা আগালেন কাষ্টার্ড-এর মতো দেখতে মাষ্টার্ড।তিনিও আউট হলে বরিশালের লঞ্চ ডুবো ডুবো।মমিনুল-এর ব্যাটে অবশেষে একশ পার।শেষের দিকে ভুল করলেন মমিনুল।বোলিং করার সময় বমি করার মতো আওয়াজ করতে থাকা শাহদাতকে স্কুপ প্যাডেল করতে গিয়ে উইকেট দিয়ে বসলেন।আমি শুনেছিলাম, সাজুগুজু করতে ব্যাপক টাকা দাবি করায় বিপিএলের কোন দল শাহদাতকে কেনে নাই।তাহলে কি দাড়ি কামাবেন না এই শর্তে খোচা খোচা দাড়ি নিয়েই খুলনের বিপক্ষে খেললেন শাহদাত???যাই হোক, সহজেই রান তাড়া করে জিতলো খুলনা।

Sylhet Royals VS Duronto Rajshahi
ব্রাড হগের মাথার উপর ফূলটস বলে ঊড়িয়ে মারলেন মুশফিক।বাউণ্ডারী লাইনে ক্যাচ নিয়ে ফিল্ডার আনন্দে দুইদিকে দিহাত প্রসারিত করলো।কিন্তু আম্পায়ার এক হাত প্রসারিত করে জানালেন এটা নো বল।মারলোন স্যামুয়েলস বেশ ভালোই মারলো।এরই ফাকে সাক্ষাতকার নেয়া হলো খেলা দেখতে আসা সঙ্গীত তারকা ফাহমিদা নবীর।তিনি একটি গানও গেয়ে শোনালেন “লুকোচুরী লুকোচুরী গল্প,তারপর হাতছানি অল্প,মন চায় উড়তে উড়তে,প্রান চায় উড়তে”।ক্রিকেট খেলায় লুকোচরী,কানামাছি,দাড়িয়াবান্ধা টেনে আনার দরকার কী? এভাবে কি গানটা গাওয়া যেত না “টুয়েন্টি টুয়েন্টি গল্প,গ্যালারীতে দর্শক অল্প,বল চায় উড়তে উড়তে,ক্যাচ চায় পড়তে পড়তে”।আমার মনের কথা বুঝতে পেরেই কিনা উড়িয়ে মারলো স্যামুয়েলস,ক্যাচ ফেললো নাইম।আব্দুর রাজ্জাকেরও ক্যাচ পড়লো।এতে রাজশাহীর স্কোর ১৭১।সিলেটের ব্যাটিংয়ের শুরুতে কামরান আকমল ভালোই কামড়ালেন।কাপালী ভালোই কাপালো।কিন্তু কাপালী অনেকটা ‘কপিলা’ চরিত্রের মতো আনপ্রেডিক্টেবল।বোলিংযে এসে এই ছক্কা খাচ্ছেন,আবার উইকেট পাচ্ছেন; ব্যাটিংয়েও যখন চার-ছক্কা মেরে যাচ্ছিলেন,তখনই হঠাত ফাওয়াদ আলমের ইতিহাস সেরা এক ক্যাচে আউট হলেন।সিলেটকেও ম্যাচ হারতে হলো।প্রথম চুই ম্যাচ হেরে ডুবন্ত রাজশাহী এই ম্যাচে ঘুড়ে দাঁড়িয়ে হলো ঘুরন্ত রাজশাহী।

Dhaka Gladiators VS Barisal Burners
ঢাকার ইনিংসে প্রথম দুই ওভারে হয়েছিলো এক রান।কিন্তু পরবর্তিতে আজহার মাহ্মুদ আর ইম্রান নাজিরের তান্ডবে ঢাকার পাণ্ডবেরা ২০০ ছাড়ালো।বরিশাল গেইল দানবটাকে লেলিয়ে দিয়ে খেলিয়ে গেলো।জয় যখন বরিশালের বন্দরে,তখন গেইলের আউটে গাইল না দিয়ে উপায় ছিলো না।তীরে এসে স্পীড বোট ডুবলো বরিশালের।

Sylhet Royals VS Chiattagong Kings
দুপুরের ভাত খাইতে খাইতে খেলা দেখছিলাম। একের পর এক ম্যাচ হেরে সিলেট কোথায় ভালো খেলোয়াড় আনবে তা না,তারা নিয়ে এসেছে রিয়া সেনকে।কাউয়া ফিগারের রিয়া সেন সাক্ষাতকারে জানালন,তিনি বাংলাদেশের খাবার খুবই পছন্দ করেন।এই দেশে এসে ভাত খেয়ে ওজন বাড়িয়ে ফেলেছেন।আমার প্লেটের কয়েকটা ভাত কাউয়াটার দিকে ছিটিয়ে দিতে মন চাইলো।এদিকে সিলেটের ১৫২ রানের জবাব দিলো চিটাগাং-এর দেশী খেলোয়াড়েরা।বাংলাদেশে বিরল প্রজাতি পেস বোলার অলরাউন্ডারদের একজন জিয়া বেশ ভালো খেললেন।আমাদের দেশের ডায়েট কন্ট্রলে থাকা জিরো ফিগার খেলোয়াড়দের মধ্যে এরকম বিশালদেহী খেলোয়াড় সচারচর দেখা যায় নয়া।ভাইজান গরু মোটা তাজাকরনের ঔষূধ খায় নাই তো???

Barisal Burners VS Chittagong Kings:
দ্রুত ৩০ রান করে ইনজুরিতে পড়ে ল্যাংচাইতে ল্যাংচাইতে গেইল প্যাভিলিয়নে গেলো।বরিশালও সারা ম্যাচ ধরে ল্যাংচালো।চিটাগং-এর সহজে ম্যাচ জেতায় প্রমান হলো “গেইল নাই তো বরিশালের বেইল নাই”।

Duronto Rajshashi VS Dhaka Gladiators
দুরন্তভাবে ম্যাচটা জিতে নিলো রাজশাহী।ম্যাচশেষে মুশফিক বলেই ফেললেন “ITS time for party”।আশা করি, আদনান সামির গান ছেড়ে রাজশাহীর হ্যাট্রিক হিরো মোহাম্মাদ সামিকে নিয়ে পার্টি করা হয়েছে।

Duronto Rajshahi VS Chittagong Kings
অল্প কিছু রান করেও ম্যাচ জিতলো উড়ন্ত রাজশাহী।সারা ম্যাচে ছিলো তীব্র ঢিলা ঢিলা উত্তেজনা।আরুন লালকে ধন্যবাদ ম্যান অফ দা ম্যাচ সাকলাইন সজীবের সাক্ষাতকার বাংলায় নেবার জন্য।যদি হিন্দী উর্দুর ব্যাবহার হতে পারে তাহলে বাংলা ব্যাবহারে দোষ কোথায়।আমরা সবাই চাই, ভাষার মাসে বিপিএল (Bangladesh premier League) যেন বিপিএল (বাংলা পর্যুদস্ত লীগ ) না হয়ে যায়।


লিখেছেনঃ সামুর ব্লগার সাদরিল 

স্পোর্টস রম্যঃ বিপিএল-এর উদ্বোধনী ,গেইলের খেইল, পড়ন্ত রাজশাহী এবং অন্যান্য

শুরুর আগেই BPL ব্যাপকভাবে প্রচারিত লীগ।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভারত হইতে আইকা লাগানো মাল (মালাইকা) এবং তাদের সাংপাংগদের আনা হইবে।ভাষার মাসে ঐসব ভারতীয় খুকীদের আনিয়া আমাদের ইজ্জতের উপর কালিমা আকিবুকি করিবার কী প্রয়োজন আছিলো তাহা বোধগম্য নয়।যাহা হউক, উদবোধনী অনুষ্ঠান শুরু হইতে একটু টিভিতে উকি না পারিয়া পারলাম না।দেখিলাম,কুমার বিশ্বজিত,শান আর বাপ্পী লাহড়ী গান গাইতেছে “কাপছে আকাশ,কাপছে বাতাস,কাপছে মাটি” এবং আরও কি জানি কাপিবার কথা বলিলো।বাপ্পী লাহড়ীর মত মানুষ যদি হাটাহাটি করিয়া বেড়ায় তাহলে মাটি তো কাপিবেই।অবশ্য BPL শব্দটা বাপ্পীদার সাথে বেশ যায়। বাপ্পী পটকা লাহড়ী (BPL)!

টিভি বাদ দিয়া ফেসবুকে বসিলাম তবুও BPL হইতে নিস্তার নাই।নৃত্যরত মালাকাইর স্থির ছবি বহুজনের দেয়ালে চাক্ষুস হইলো।তবে আশার কথা হইলো কেহ মালাইকারে মাল হিসেবে বিবেচিত করিয়া তাহার ছবি আইকা দিয়া নিজ দেয়ালে লাগায় নাই,তাহারা প্রতিবাদ করিতেছে ‘ভাষার মাসে এহেন এন্তেজামের কি দরকার?’ছবি দেখিয়া ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিতে বাধ্য হইলাম “BPL=Bangladesh porno league”।উদবোধোনী অনুষ্ঠান লইয়া বহু শব্দ অপচয় করিলাম।এখন খেলায় চলিয়া যাই।

ম্যাচ ১ঃ sylhet royals vs Barisal burners
টিভি খুলিতে খুলিতেই দেখি দুই ওপেনারগনরে হারাইয়া সিলেট রয়েলের ঘায়েল হইবার দশা।কিন্তু ট্রেগো আর কাপালীর অর্ধশততে চ্যালেঞ্জিং স্কোর ১৬৫।সবচাইতে কম টাকায় দল গড়িয়াও সিলেট কিনা শুরুতেই বাজিমাত করিয়া ফেলায় কিতা তাহা ভাবিতেছিলাম।কিন্তু গেইলার কথা ভুলিয়া গেইছিলাম।শুরু করিতে লম্বুটা একটু সময় নিলো, যেই শুরু হইলো থামাথামির কোন ভিভিএস লক্ষন নাই।প্রথমে ভাবিলুম ছাদে গিয়া দাড়াই।গেইলের মারা বল মিরপুর হইতে রামপুরায় আমার ছাদে আসিলেও আসিয়া যাইতে পারে।এই সুযোগে যদি ক্যাচখান ধরিতে পারি!কিন্তু পরক্ষনেই বুঝিলুম গেইল ঢাকা হইতে বলটারে বরিশালে পাঠাইবার সংকল্প করিয়াছে।হুদাই স্টেডিয়ামে সেলেটের ফিল্ডাররা ফিল্ডিং মারিতেছিলো।তাহারা স্পীডবোট বাগাইয়া দ্রুত বরিশালের বিভিন্ন জেলায় গমন করিয়া সেইখানে ফিল্ডিং পজিশন লইলেই পারিতো।ওদিকে অন্য ওপেনার শাহজাদও কম না।গেইলের মত ঊড়াইয়া মারীতে না পারিলেও সুযোগ বুঝিয়া সেও চিপাচুপা-অলিগলি দিয়া বল মারিয়া অর্ধশত করিয়া বসিলেন।গেইল ছয় মারিলো,বরিশাল ম্যাচ জিতিলো আর বরিশাল বার্নাসের অনলে burned হইলো সিলেট।গেইলার সৌজন্যে BPL হইলো BPL (বাংলাদেশ পিটাপিটি লিগ)।গেইল ঐরূপ খেইল না দেখাইলে সেলেটও জিতিতে পারিতো।দলটির জন্য শুভকামনা রইলো।

ম্যাচ ২ঃ Duronto rajshahi vs Chittagong kings
রাজশাহীর নাম দূরন্ত রাজশাহী না হইয়া পড়ন্ত রাজশাহী হইলে ভালো হইতো।একের পর এক ক্যাচ তাদের পড়িতে লাগিলো।ক্যাচ মিস তো ম্যাচ মিস।চিটাগাংযের ওতগুলি ক্যাচ মিস করিয়া ম্যাচ হারিয়া যাইবার মিসকল তাহারা আগেই দিয়া রাখিলো।সেই সুযোগে চিটাগাং-এর ২০০ ছাড়াইলো।রাজ্জাক আর জুনাইয়েদ আউট হইলে টিভী ছাড়িয়া গেলাম।ম্যাচখানা একপেশে হইবে কোন সন্দেহ ছিলো না।কিন্তু শেষ মুহুর্তে ম্যাচ ধরিতে দেখিলাম সাব্বির নামের এক বালক ৭ নম্বরে নামিয়া ভালোই ব্যাট চালাইলো।হারিয়াও হার না মানার মানসিকতা সম্পন্ন এহেন বালকদিগকে ভবিষ্যতে জাতীয় দলে দেখিবার আশা রাখিলাম।

ম্যাচ ৩ঃ Dhaka gladiators Vs Khulna royel bengal tigers
টানা তিন ম্যাচে ক্যারেবিয়ান কেরামতি।প্রথম দুই ম্যাচে গেইল আর ব্রাভোর পর আন্দ্রে রাসেল।একজন আনব্যালেন্সড ক্রিকেট বোদ্ধা (কিংবা বোকদা) হিসেবে বলিতেছি,খুলনার দল খানা ভারী ব্যালেন্সড।ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস-এর মন পড়িয়া রইয়াছে শারজায় যেথায় শহীদ আফ্রিদি পাকিস্তানের হইয়া খেপ খেলিতেছে।

ম্যাচ ৪: Duronto rajshahi vs Barisal burners
গেইল মহাশয়কে একজন নির্দয় মানুষ হিসেবেই ধারনা করিয়াছিলাম।ঐভাবে অমানবিকতা সহযোগে বলখানা পেটাইলে যেকোন ব্যাক্তির মায়া-মমতা লইয়া প্রশ্ন আসিয়া যাওয়া স্বাভাবিক।কিন্তু এই ম্যাচে জানলুম মানুষখানা বেশ সত।বল ব্যাটে লাগিয়াছে,উইকেট রক্ষক ক্যাচ ধরিয়াছেন, এতকিছু হইবার সত্তেও আম্পায়ার আউট না দেওয়ায় ক্রিস গেইল নিজ উদ্যগে ক্রিজ হইতে ওয়াক আউট করিলেন।‘ওয়াক আউট’ শব্দখানা সংসদের পাশাপাশি খেলার মাঠেও চালু করার দাবী জানাইয়া রাখিলাম।গেইলের এই মহানুভবতার সুযোগ লইয়া শাহজাদ দারুন খেলিলেন, ব্যাটে বলে উভয়েই।ফলাফলঃ পোলাপাইন সমৃদ্ধ দূরন্ত রাজশাহীর আরেকখানা পরাজয়।তবে তাহাদের ওপেনার মিজানুর-এর ব্যাটিং মনে ধরিয়াছে।দূরন্ত রাজশাহীর মতো অন্যান্য সব দলেও বিদেশী বুড়োদের পরিবর্তে দেশীয় পোলাপাইনদের আরো বেশি বেশি দেখিবার আশা রইলো।

এই খেলাটি চলার সময়েই সাক্ষাতকার নেয়া হইলো মিসেস রহমানের (সম্ভবত কোন হোমড়া চোমড়ার স্ত্রী)।প্রথমবারের মতো স্টেডিয়ামে আসিয়া খেলা (এমনও হইতে পারে,জীবনে প্রথমবার ক্রিকেট খেলা) দেখিতে পারায় আন্টি বেজায় খুশী।কথা প্রসঙ্গে বিপিএল-এ বাংলাদেশ-আর ভারততের কালচার-এর মিক্সচার লইয়া উচ্ছাস প্রকাশ করিলেন।আন্টিগো, সব জায়গায় ভারতের কালচারের সহিত সংমিশ্রন না করিলেও চলে।ক্রিকেট নিজেই একখান এন্টারটেইনমেন্ট,ইহার সাথে আর কিছুর অবৈধ সম্পর্ক চাই না।ইহা BPL (Bangladesh premier league), BPL (বাংলাদেশ পরকীয়া লীগ) নহে।


লিখেছেনঃ সামুর ব্লগার সাদরিল 

2.11.2012

(ব্রেকিং নিউজ) বিপিএল এর খেলা দেখতে বিসিবিতে ফোন করলাম

আমিঃ হ্যালো...
ভাই ষ্টেডিয়ামে দর্শক নাই, এত টাকা দিয়ে টিকেট কিনার অবস্থা নাই, শেয়ার মার্কেট সব খেয়ে ফেলছে, কর্মসংস্থান নাই, ইনকাম নাই, সরকারকে বুঝানোর কেউ নাই কি করব আমরা X(। ষ্টেডিয়ামের পাশে বাসা হয়েও খেলা দেখতে পারছিনা। :(( বাসার ছাদে উঠলে মাঠ দেখা যায়না :-P। গতকাল আপনারা সবার জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন আজ কি দি...বে...ন? ;)

বিসিবিঃ আহেম আহেম.... না ইয়ে গতাকাল দর্শক হয়নি তাই গেইট গুলো খুলে দেয়া হয়েছিল।

আমিঃ ভাই আজও প্রথম খেলায় দর্শক হয়নি, তাই পরের খেলাটায় গেইট খুলেদেন প্লিজ
প্রমিজ আমরা জোড়ে চিৎকার করমু। =p~

বিসিবিঃ আমারা এখনো সিদ্ধান্ত নেইনি
আমিঃ ভাই তাড়া তাড়ি সিদ্ধানত নেন, প্রতিবেশী হিসাবে আপনাদের মান সন্মান দেখার দায়িত্ব বলে একটা কথা আছেনা... B-)
বিসিবিঃ খট..... X(


তার কিছুক্ষন পর পর আমরা কয়েকজন ফোন করে একি কথা বলছি দেখা যাক বিসিবি কতটা অপমান বোধ করে আর আমার কতটা সফল হতে পারি :-P

আপনারাও ফোন করতে পারেন..
০২ ৮০৩১০০৪ ;)
তারপর ০ প্রেস করে কথা বলুন



লিখেছেনঃ সামুর ব্লগার বোকা মামু